
এজি রানা, খুলনা।।পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বই ও গ্রন্থাগারসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের উদ্যোগে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী পাঠক সমাবেশ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টায় বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার, খুলনায় এ সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পাঠক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহ—এই ছয়টি বিভাগীয় শহরে পাঠক সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন পাঠকসমাজের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: আবদুল্লাহ হারুন, বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব), খুলনা। তিনি বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাসের বিস্তারের মধ্য দিয়েই টেকসই হয়।গ্রন্থাগারকে সমাজের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে এবং ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্প সেই প্রচেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জ; মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা, পুলিশ কমিশনার, খুলনা; খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান, প্রাক্তন সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাহী পরিচালক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; মুঃ বিল্লাল হোসেন খান, যুগ্মসচিব (প্রশাসন), সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প পরিচালক, দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প; এবং মোছা: মরিয়ম বেগম, পরিচালক (যুগ্মসচিব), প্রশাসন ও হিসাব, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, ঢাকা।সভায় সভাপতিত্ব করেন হুরে জান্নাত, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, খুলনা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বইয়ের গুরুত্ব কোনোভাবেই কমে যায়নি; বরং সঠিক জ্ঞান, মূল্যবোধ ও মানবিকতা বিকাশে গ্রন্থাগারের বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে গ্রন্থাগারমুখী করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের মাধ্যমে শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের পাঠাভ্যাস পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বইপড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।পাঠক সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা গ্রন্থাগারসেবার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল তথ্যসেবা সম্প্রসারণ, পাঠচক্র গঠন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা এবং পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে নিয়মিত জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সকলকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান মুঃ বিল্লাল হোসেন খান, যুগ্মসচিব (প্রশাসন), সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প পরিচালক, দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং একটি জ্ঞানসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ পাঠক সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, পাঠক এবং সংস্কৃতিসেবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের আওতায় এ ধরনের পাঠক সমাবেশ শুধু গ্রন্থাগারসেবাকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে যাবে না, বরং একটি পাঠাভ্যাসনির্ভর, আলোকিত ও জ্ঞানসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের পথকেও আরও সুদৃঢ় করবে।