
শাকিব খান নেত্রকোণা প্রতিনিধি।। একটি চারাগাছ থেকেই একদিন তৈরি হতে পারে বিশাল ছায়াঘেরা বৃক্ষ। সেই ভাবনা থেকেই আগামী প্রজন্মের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়া হয়েছে নেত্রকোণায়। শিশুদের বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর স্বপ্ন।পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), নেত্রকোণার উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান (বিপিএম-সেবা)।এ সময় নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং পুনাক নেত্রকোনার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন: পৃথিবীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বসবাসের উপযোগী রাখতে হলে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি।তিনি বলেন: গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে। একই সঙ্গে অসংখ্য প্রাণীর খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে বৃক্ষ। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বিরূপ প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা।তবে বৃক্ষরোপণের পর পরিচর্যার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ডিআইজি। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। চারাগাছকে নিয়মিত পরিচর্যা করে বড় করে তুলতে হবে। অযত্নে কিংবা গবাদিপশুর কারণে অনেক চারাগাছ নষ্ট হয়ে যায়। তাই একটি গাছকে সন্তানের মতো যত্ন করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।পুনাকের এ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা যায় উৎসাহ। নিজেদের হাতে পাওয়া চারাগাছ শুধু রোপণ নয়, সেটিকে পরিচর্যা করে বড় করার দায়িত্বও নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় তাদের। আয়োজকদের প্রত্যাশা: শিশুদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়, বরং পরিবার ও সমাজে পরিবেশ সংরক্ষণের একটি স্থায়ী সচেতনতা তৈরি হবে। আজকের এসব ছোট চারাই একদিন বড় হয়ে মানুষের ছায়া, প্রকৃতির ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের সহায়ক হয়ে উঠবে।