
ফুলতলা থেকে এস এম মমিনুর রহমান।।ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত মো. রাজু বিশ্বাস (২৫)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার মাগরিবের নামাজের পর পাড়িয়ারডাঙ্গা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে রাজুর মরদেহ ফুলতলা উপজেলার পাড়িয়ারডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।সন্তানকে হারিয়ে তার বাবা-মা, সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই মাস আগে রাজুর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুলতলা বাজারের রফিক সড়কের ‘যম-যম বস্ত্রালয়’-এ সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাজু পাড়িয়ারডাঙ্গা গ্রামের নজরুল বিশ্বাসের ছেলে। জানাজা পরিচালনা করেন পাড়িয়ারডাঙ্গা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বয়রা রায়ের মহল এলাকায় রাজু বিশ্বাস একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে ছেলেধরা সন্দেহে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে ঘটনাটিকে নিছক ভুল বোঝাবুঝি বা আকস্মিক গণপিটুনির ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।তাদের দাবি, রাজুকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে রাজুর জানাজার আগে ঘটনার প্রতিবাদে পথের বাজার এলাকায় স্থানীয় জনতা কিছু সময়ের জন্য যশোর-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় জানাজায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।