
স্টাফ রিপোর্টার।।খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি সেবাদানের কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এর কক্ষে একজন বহিরাগত ব্যক্তিকে বসে কম্পিউটারে সরকারি কাজ করতে দেখা গেছে।ওই ব্যক্তি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন বলে জানা গেছে।সম্প্রতি সরেজমিনে শোভনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তার টেবিলে বসে কাগজপত্র নিয়ে কাজ করছেন। তার পাশেই বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলেন একজন ব্যক্তি। তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী কি না জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানাযায়, তিনি ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন।পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম খাজা,যিনি স্থানীয়ভাবে ‘খাজা দালাল’ নামে পরিচিত।স্থানীয় ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের অভিযোগ, নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা পেতে খাজার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। তাদের দাবি, খাজার মাধ্যমে কাজ করলে দ্রুত কাজ হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে সরাসরি সরকারি কর্মকর্তার কাছে গেলে একই কাজ করতে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।একজন অভিযোগকারী নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, তিনি নিজের জমির দলিলপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে তাকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। পরে একই কাজ খাজার মাধ্যমে দেওয়ার পর তা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তার দাবি।ভূমি অফিসের আশপাশের কয়েকটি দোকানে থাকা স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা হয়। তাদের কয়েকজনের দাবি, খাজা অফিসের সংশ্লিষ্টদের পরিচিত ব্যক্তি এবং তার মাধ্যমে ভূমিসেবা নেওয়া হয়। তবে এসব বক্তব্যও স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।অফিসের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের কাছে খাজার নিয়মিত আসা-যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন।এ বিষয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, খাজাকে তিনি নিজেই ডেকে আনেন এবং তার কাজ করানোর জন্য তাকে অফিসে আসতে বলা হয়।সরকারি অফিসের কম্পিউটার বা সরকারি নথিপত্রে একজন বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তবে বিষয়টি সরকারি বিধি-বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।এদিকে, প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা” আপনারা যা পারেন করেন এই বলে লাইনটা কেটে দেন।এই বিষয়টি নিয়ে খাজার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।তবে এ বিষয় ডুমুরিয়া উপজেলার ইউএনও অফিসার সবিতা সরকার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি এই বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।