
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ চশমা শিল্প ও বণিক সমিতি, খুলনা শাখার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে মামুন–হাবিব–রফিক পরিষদ তাদের নির্বাচনী ১৮ দফা ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে পরিষদের নেতারা বলেন, খুলনার চশমা শিল্প ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আধুনিক ও সেবামুখী সংগঠন গড়ে তোলা এবং সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী সমিতি গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘোষিত ১৮ দফা ইশতেহারে সদস্যদের অধিকার রক্ষা, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সামাজিক কল্যাণ কার্যক্রম সম্প্রসারণসহ সমিতির সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ব্যক্তি নয়, সমিতির উন্নয়ন। সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যের ভিত্তিতে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করতে চাই।”
আসন্ন দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে মামুন–হাবিব–রফিক পরিষদ তাদের ১৮ দফা ইশতেহারের মাধ্যমে সদস্যদের সমর্থন ও মূল্যবান ভোট কামনা করেছে।
১৮ দফা ইশতেহার
আমাদের অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা:-
০১। সমিতির নিজস্ব স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠাঃ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে খুলনা সদর থানায় একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যালয় স্থাপন করা হবে। যেখানে সমিতির সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং উক্ত কার্যালয়ের খরচাদি সমিতির সদস্যগণ বহন করিবে।
০২। নিয়মিত নির্বাচনঃ সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার (প্রতি ২ বছর) মধ্যে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা হবে। ২ বছর পর নির্বাচনে বদ্ধপরিকর সকল উপদেষ্টাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া।
০৩। তথ্য ও নথি হালনাগাদঃ সদস্য তালিকা, সাংগঠনিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। সঠিক চশমা ব্যবসায়ীদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সদস্যপদ হালনাগাদ করা হবে।
০৪। উপদেষ্টা ও সদস্যদের মতামতের গুরুত্বঃ যোগ্য উপদেষ্টা ও নতুন সদস্য
সংগ্রহের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করা হবে এবং সমিতির গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়ে সদস্যদের মতামত নিয়ে আলোচনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
০৫। ব্যবসায়িক কল্যাণ ও প্রশাসনিক সহায়তাঃ ভ্যাট ও লাইসেন্স সহায়তা: সদস্যদের সরকারি ভ্যাট, কর, ট্রেড লাইসেন্স এবং ব্যবসা সংক্রান্ত যেকোনো প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানে সমিতি সরাসরি পাশে থাকবে।
০৬। সময়সূচি নির্ধারণঃ শুক্রবারসহ অন্যান্য কার্যদিবসে দোকান খোলা ও বন্ধের জন্য সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য সময়সূচি তৈরি করা হবে।
০৭। আর্থিক স্বচ্ছতাঃ সমিতির সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রতি বছর সদস্যদের সামনে তা পেশ করা হবে। সত্য ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে সদা সচেষ্ট থাকবো।
০৮। উৎসব ও ধর্মীয় আয়োজনঃ প্রতি রমজানে ইফতার মাহফিল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যতা বজায় রেখে পালন করা হবে।
০৯। বার্ষিক বনভোজন, খেলাধুলা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানঃ সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে প্রতি বছর আনন্দঘন বনভোজন এবং সদস্য ও স্টাফদের জন্য বার্ষিক খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতা ও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
১০। প্রচার ও যোগাযোগঃ সমিতির সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে ওয়েবসাইট ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কার্যকর প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।
১১। বিপদে সহমর্মিতাঃ কোনো সদস্য অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা আর্থিক বিপদে পড়লে সমিতি থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এছাড়া কোন সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে তার দাফন কাফনের ব্যয়ভার সমিতি বহন করবে।
১২। দোকান খোলা ও বন্ধ রাখাঃ যেহেতু চশমার দোকান একটি জরুরী পরিসেবা। সেহেতু সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটির দিন, যেমন শুক্রবার ৪টি দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। (শুধুমাত্র কেসিসি চশমা মার্কেটের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি প্রযোজ্য থাকবে)
১৩। ব্যবসায়িক সহমর্মিতাঃ আমরা অবশ্যই কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। যেহেতু প্রত্যেক ব্যবসায়ী তাদের নিজ নিজ সৃজনশীলতার মাধ্যমে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে তার পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা সমিতির মাধ্যমে করা হবে।
১৪। পণ্যের মূল্য ও রেট নির্ধারণঃ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পণ্যের যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য রেট নির্ধারণে কঠোরভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৫। স্টাফদের সুযোগ-সুবিধাঃ সমিতির মাধ্যমে চশমা ব্যবসায় দক্ষ স্টাফ তৈরীর পরিকল্পনা করে প্রশিক্ষিত কর্মীদের কাজের সুবিধা সৃষ্টি ও পরিবেশ তৈরী করা এবং স্টাফদের সুযোগ সুবিধা সুরক্ষা রেখে দোকান মালিকদের এনওসি’র মাধ্যমে চাকুরী থেকে অব্যাহতি নেওয়া ও নতুন চাকুরীর সুযোগ তৈরী করা।।