1. admin@dainikdigantor.com : admin :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খুলনা কবি-সাহিত্যিক ফোরাম ৩ জন সাহিত্যিক কে দিলেন খুলনারত্ন সম্মাননা সংবাদপত্র ছাড়া পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়-শেখ মোস্তাফিজুর রহমান নওয়াপাড়ায় ফাতেমা হাসপাতালে অপারেশন পরবর্তী প্রসূতির মৃত্যু শরীয়তপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ হাতে খালের ময়লা পরিষ্কার করলেন হুইপ অপু খুলনায় বসছে ‘খুলনা রত্ন সম্মাননা-২০২৬’: তিন গুণীজন পাচ্ছেন বিশেষ স্বীকৃতি মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হাবুর মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসির আদেশ খুলনা ও বাগেরহাট ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২৯০ খুুবির ৭ম সমাবর্তন ১৮ জানুয়ারি

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

নূর মোহাম্মদ -স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ৬৩ লাখ টাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এ অর্থ পৌরসভার রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই উন্নয়নমূলক কাজগুলোর মধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঠিকাদার নির্বাচন করা এবং অধিকাংশ কাজ না করেই কাজ সম্পন্ন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, পৌরসভার কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে অধিকাংশ টাকা কাজ না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে। পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সড়কে রোড মার্কিং, রাস্তা মেরামত, পৌর উদ্যানের ইটের সলিং’সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ।এর মধ্যে জেলা সদর রোডের অ্যাডভোকেট বার সমিতি থেকে হেলিপ্যাড ও দেওলা কালিবাড়ী রোড কার্পেটিং করার জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪১ টাকা।এ কাজের কোনো প্রকার দরপত্র ছাড়াই কাগজে-কলমে কাজ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনবি এন্টারপ্রাইজ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেওলা কালিবাড়ী রোডে কোনো কাজই করা হয়নি। এরপরও ঠিকাদার তুলে নিয়েছেন বিলের টাকা। শহরের ক্লাব রোড থেকে স্টেডিয়াম রোডে নামে মাত্র কাজ করা হয়েছে। তবে পৌর উদ্যানে ইটের সলিং করলেও তারেক রহমান টাঙ্গাইল ত্যাগ করার পরপরই সেই ইটগুলো তুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই প্যাকেজে র‌্যাব অফিসের সামনে ও পার্ক বাজারে গেটে সিসি ঢালাই করার কথা থাকলেও, সেখানে পুরাতন রাস্তার উপর সামান্য বিটুমিন দিয়ে কার্পেটিং এবং রোড মার্কিং করা হয়েছে। আর এ চারটি কাজের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২০ লাখ ৩২ হাজার ৯৯১ টাকা। সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এর কাছ থেকে জানা যায়, এই কাজগুলো পায় মেসার্স রুপা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।জেলা সদর রোড থেকে নিরালা মোড় হয়ে অ্যাডভোকেট বার সমিতির সামনে এবং ড্যাফোডিল মোড় থেকে জেলা সদর রোড হয়ে শাহীন স্কুল পর্যন্ত রোড মার্কিং করার জন্য ৭ লাখ ৮ হাজার ১১৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় মমিন অ্যান্ড জসিম এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে ড্যাফোডিল মোড় থেকে জেলা সদর রোড পর্যন্ত কোনো রোড মার্কিং করা হয়নি। তবে সে সময় জেলা সদর রোড থেকে শাহীন স্কুল পর্যন্ত রোড মার্কিং করা না হলেও গত আগস্ট মাসে ৫৬ মিটার সড়কে রোড মার্কিং করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। পৌরসভার নথিপত্র অনুযায়ী, এসব কাজের পরিমাপ, বিল প্রস্তুত ও কাজ সম্পন্নের প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন তৎকালীন টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী, সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্টরা জানান, ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন না করেই বিল তোলা হয়েছে। এর আগেও এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টাঙ্গাইল সফরকে কেন্দ্র করে গত ৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল পৌরসভার রাজস্ব খাত থেকে প্রায় ৬৩ লাখ টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। দরপত্র আহ্বানের মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করা হয়। পৌরসভার নথিপত্র, ওয়ার্ক অর্ডার, বিল-ভাউচারে উঠে এসেছে নানা অসংগতির তথ্য। ঠিকাদার ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রাজস্ব খাতের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের উপর ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর আগমনে টাঙ্গাইলে রাস্তা অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া টাকা আত্মসাতে জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, টাঙ্গাইলে গত ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে গত ৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল পৌরসভার রাজস্ব খাত থেকে প্রায় ৬৩ লাখ টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রভাবশালীর এক বিএনপির নেতার অফিসে বসে এসব কাজের ঠিকাদার নির্ধারণ করা হয়।তিনটি উন্নয়নমূলক কাজের রাজস্ব খাত থেকে ৪৩ লক্ষ টাকা এবং শামসুল হক তোরণ সংস্কার ও রং, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং রাইফেলস ক্লাবের দেয়ালে রংসহ অন্যান্য কাজের জন্য বাবদ প্রায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। টাঙ্গাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, নিয়ম অনুযায়ী সকল কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারদের বিল দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন এ ধরনের ঘটনা কারো কাম্য নয়। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীগন ঠিকাদারদের মাধ্যমে সঠিকভাবে কাজ করিয়ে নেওয়ার কথা। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই টেলিভিশন চ্যানেল সহ জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক দিগন্তর © বাজ এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।। Regi No-280138  
Theme Customized By Shakil IT Park