1. admin@dainikdigantor.com : admin :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমসিএসকে পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ইনডোর সুইমিং পুল ও জিমনেশিয়াম নির্মাণের আশ্বাস বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈশার সুস্থতা কামনা রাতে ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করবেননা, কারন গভীর রাতের ফোন হয় আপনাকে বাঁচানোর জন্য নয়তো অন্য কাউকে বাচানোর জন্য আসে! চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী খুলনা রূপসায় প্রতিপক্ষের হা”মলায় হাসান ওরফে বিহারীর মৃ”ত্যু স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করলেন এমপি আমির এজাজ খান রংপুরে ভাত খাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন সিপাহি আল-আমিন! দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলছে বিটাক: কারিগরি শিক্ষায় আত্মনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা বিবৃতি তালতলীতে রাতের আঁধারে যোগাযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ, দুর্ভোগে ১২ টি পরিবার

বন্ধু কি সত্যিই আছে? নাকি সবই স্বার্থের সম্পর্ক?

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

 

“বন্ধু বলে কিছু নেই, সবই স্বার্থের খেলা”— এমন অভিযোগ আজকাল শুধু হতাশ মানুষের মুখে নয়, বরং সমাজের নানা স্তরে প্রতিধ্বনিত হতে শোনা যায়। সম্পর্কের ভাঙন, প্রতিযোগিতার চাপ, স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রবণতা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতার যুগে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— প্রকৃত বন্ধুত্ব কি আদৌ আছে, নাকি এটি কেবল একটি রোমান্টিক ধারণা?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের সমাজ, মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার দিকে তাকাতে হয়।মানুষ সামাজিক প্রাণী। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, অধিকাংশ সম্পর্কের মধ্যেই কোনো না কোনো বিনিময় কাজ করে। কেউ মানসিক সমর্থন চায়, কেউ নিরাপত্তা, কেউ সুযোগ, আবার কেউ সামাজিক মর্যাদা। এই কারণেই অনেক সম্পর্কের ভিত্তি হয়ে ওঠে পারস্পরিক প্রয়োজন।সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন সেই প্রয়োজন বা স্বার্থে আঘাত লাগে। দীর্ঘদিনের বন্ধুও তখন দূরে সরে যায়। সামান্য মতবিরোধ, একটি তিক্ত বাক্য বা কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি কখনও কখনও বছরের পর বছর গড়ে ওঠা সম্পর্ককে মুহূর্তে ভেঙে দিতে পারে।অনেকের অভিজ্ঞতা বলছে, সুখের সময় যাদের পাশে দেখা যায়, দুঃসময়ে তাদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে জন্ম নেয় এক গভীর হতাশা— “স্বার্থ শেষ, সম্পর্কও শেষ।”বর্তমান পৃথিবী এক কঠিন প্রতিযোগিতার মঞ্চ। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা সামাজিক অবস্থান— সর্বত্র এগিয়ে থাকার লড়াই।এই প্রতিযোগিতা মানুষকে আরও আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। অন্যের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিবর্তে অনেকেই সেটিকে নিজের অবস্থানের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন। ফলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, সম্মান প্রদান বা অন্যের অবদান স্বীকার করার মতো মানবিক গুণগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।যার হাত ধরে কেউ জীবনের নতুন পথের সন্ধান পেয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মানুষটির অবদানও অনেক সময় ভুলে যায়। অকৃতজ্ঞতার এই প্রবণতা সম্পর্কের ভিতকে নড়বড়ে করে দেয়।আমরা কি সত্যিই সবজান্তা হয়ে উঠছি?মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে নিজের একটি ‘আদর্শ সংস্করণ’ তুলে ধরতে উৎসাহিত করে। এর ফলে অনেকেই নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে চান না।আমরা অন্যের কথা শোনার চেয়ে নিজের কথা বলতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছি।সমালোচনা গ্রহণের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, সামান্য মতভেদও অনেক সময় শত্রুতায় রূপ নিচ্ছে।এই মানসিকতা বন্ধুত্বের জন্য বড় বাধা। কারণ প্রকৃত বন্ধুত্ব টিকে থাকে সহনশীলতা, শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর; অহংকারের ওপর নয়।তাহলে কি প্রকৃত বন্ধু বলে কেউ নেই?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বাস্তবতা আমাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র দেখায়।হ্যাঁ, অধিকাংশ সম্পর্কেই কিছু না কিছু স্বার্থ কাজ করে। কিন্তু তাই বলে সব সম্পর্ককে একই মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না।ইতিহাস, সাহিত্য এবং বাস্তব জীবন— সব জায়গাতেই এমন মানুষের দেখা মেলে, যারা কোনো লাভের আশায় নয়, বরং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মানবিকতার কারণে বন্ধুত্ব ধরে রেখেছেন।এমন বন্ধু সংখ্যায় খুব বেশি নয়। তারা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়। কিন্তু সংকটের মুহূর্তে তারাই পাশে দাঁড়ায়, যখন সবাই দূরে সরে যায়।প্রকৃত বন্ধু সেই ব্যক্তি, যে আপনার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হয়ে আনন্দিত হয়; আপনার ভুলের প্রশ্রয় না দিয়ে সত্য কথা বলে; আপনার দুর্বলতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে আস্থার জায়গায় রাখে।সমাজ পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রকৃত বন্ধুত্ব আজও বিলুপ্ত হয়ে যায়নি; বরং তা সবসময়ই বিরল ছিল।হাজার পরিচিত মানুষের ভিড়ে হয়তো একজন বা দুজন মানুষই সত্যিকারের বন্ধু হয়ে ওঠে। তাদের সম্পর্কের ভিত্তি হয় না অর্থ, ক্ষমতা, সুবিধা কিংবা লালসা। সেখানে থাকে বিশ্বাস, ত্যাগ, শ্রদ্ধা এবং নিঃস্বার্থ মমতা।এই মানুষগুলো প্রমাণ করে যে পৃথিবী পুরোপুরি স্বার্থের খেলায় পরিণত হলেও মানবিকতার আলো এখনও নিভে যায়নি।বন্ধুত্ব নিয়ে হতাশার কারণ অমূলক নয়। বাস্তবতা হলো, অনেক সম্পর্কই স্বার্থের পরীক্ষায় ভেঙে পড়ে। প্রতিযোগিতা, অহংকার, অকৃতজ্ঞতা এবং আত্মকেন্দ্রিকতা মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েছে।তবু এই কঠিন সত্যের মধ্যেও আরেকটি সত্য রয়ে গেছে— সব মানুষ এক নয়। ভেজালের ভিড়ে যেমন খাঁটি জিনিসের অস্তিত্ব থাকে, তেমনি অসংখ্য স্বার্থনির্ভর সম্পর্কের মাঝেও কিছু মানুষ নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের উদাহরণ হয়ে ওঠে।

শাহবাজ খান
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক দিগন্তর © বাজ এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।। Regi No-280138  
Theme Customized By Shakil IT Park