
শাওন,জেলা প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ।।এক থেকে দুদিন পরে ঈদ-উল-ফিতর।তাই প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমালঞ্চের প্রায় ২১ জেলার মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে সকাল থেকেই বাড়ছে লঞ্চের যাত্রী। তবে লঞ্চঘাটে কাটাযাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও নেই ভোগান্তি। ঘাটে আসা মাত্রই টিকিট কেটে লঞ্চ ওঠে যাচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জেলার ঈদে ঘরমুখো মানুষ।অন্যদিকে যানবাহনগুলো নিরাপদে পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৭ টি ফেরি অপারেশনে রেখেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। তবে ঈদের আগে চিরচেনা ভোগান্তি আর যাত্রীদের দুর্ভোগের সেই চিত্র এখন আর নেই। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে এই নৌপথে যানবাহনের সংখ্যা কমেছে অর্ধেক। ফলে যানবাহনের তুলনায় পর্যাপ্ত ফেরি নৌবহরে থাকায় স্বস্তিতেই পার হচ্ছে নৌপথ। ঈদ ঘনিয়ে আসলেও যানবাহনে চাপ নেই পাটুরিয়া ফেরিঘাটে।শনিবার(২৯ মার্চ) সকাল আটটার দিকে পাটুরিয়ায় লঞ্চঘাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে কাটা বাসে করে পাটুরিয়া এসে নামছেন ঘরমুখো মানুষ। আগের মত সড়ক পথে ভোগান্তি না থাকায় কম সময়েই ঘাটে আসছেন তারা। এর পর লঞ্চের টিকিট কেটেই যাত্রীরা লঞ্চে ওঠে পড়ছেন। পরিমান অনুযায়ী যাত্রি হওয়ার পর পরই লঞ্চঘাট ছেড়ে রাজবাড়ির দৌলতদিয়ার লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্য ছেড়ে যাচ্ছে।অন্যদিক পাটুরিয়া ৩ নাম্বার ফেরি ঘাটের চিত্রও স্বাভাবিক। যানবাহনগুলো সহসাই ফেরিতে ওঠে যাচ্ছে। ভোগান্তির এই নৌপথে এবারের ঈদযাত্রায় নেই ভোগান্তি আর দুর্ভোগের চিত্র।কুষ্টিয়ার হালিম মিয়া বলেন, ‘ঈদের সময় ভোগান্তি ছাড়াই লঞ্চে করে সহজেই নদী পার হতে পারছি। এটি খুবই আনন্দের, কারণ আগের যাত্রীদের কাছে ভোগান্তির নামই ছিল পাটুরিয়া ফেরিঘাট। লঞ্চে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি করতে হত, অনেক সময় পনিবারের সদস্যের নিয়ে বিপাকে পড়তে হত। কিন্তু এখনই আর সেই চিত্র নেই।সাহিদুল খালেদ নামে পোশাককর্মী বলেন, ‘সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। পরিবার নিয়ে ঝিনাইদহ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে এখন আর ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থাকতে হত। ওই সময় আমাদের কষ্ট আর দুর্ভোগের শেষ ছিল না। কিন্তু এখন আরামেই নৌপথ পারাপারে হতে পারছি।লঞ্চঘাটে ম্যানেজার পান্না লাল নন্দি বলেন,’ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নদীপথ পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ২০ টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। তবে আজকে সকাল থেকে লঞ্চঘাটের যাত্রী বাড়লে কোন ভোগান্তি নেই। এ ছাড়া কোন লঞ্চেই নিদিষ্ট যাত্রীর চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে না। আশা করছি ভোগান্তি ছাড়াই আমরা ঘরমুখো যাত্রীদের নৌপথ পারাপার করতে পারবো।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ে বাণিজ্য শাখার সহমহাব্যবস্থাপক মোঃ সালাম হোসেন বলেন,’ঈদযাত্রায় যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নৌপথে ১১ টি রো রো, ২ টি ইউটিলিটি, ১টি কেটাইপ, ৩টি ছোট ফেরিসহ মোট ১৭ টি চলাচল করছে। এতে ঘাটে আসার পর পরই পরিবহন বাস, ব্যক্তিগত ছোটগাড়িসহ জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকও সহসাই ফেরিতে ওঠতে পারছে। তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতেই নৌপথ পার হয়ে যে যার গন্তব্যে ফিরছে বলে তিনি জানান।