
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : শেরপুর জেলা কারাগার থেকে পলাতক ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদী আতাহার আলী (৩২) কে আটক করেছে র্যাব ১৪, সিপিসি-১, জামালপুর।কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোঃ আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।তিনি বলেন র্যাব তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, হত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছে, যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ কর্তৃক ইতোমধ্যেই বিশেষ ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। র্যাব-১৪ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় যে কোন অপরাধ কর্মকাণ্ড দমনের লক্ষ্যে র্যাব ফোর্সেস অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সমাজ তথা দেশকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।উল্লেখ্য, শেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ০৫ আগস্ট ২০২৪খ্রি. তারিখ বিকাল অনুমান ১৬০০ ঘটিকার সময় শেরপুর জেলা কারাগারে কয়েক হাজার দুস্কৃতিকারী আক্রমন করে বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি সাধনপূর্বক বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বিভিন্ন মামলার ৫১৮ হাজতী ও কয়েদীকে পলায়ন করতে সহায়তা করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর কোম্পানি শেরপুর জেল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় কর্তৃক সরবরাহকৃত পলাতক হাজতী ও কয়েদীদের তালিকা সংগ্রহ করে উক্ত হাজতী কয়েদীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে।এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর কোম্পানি কয়েদী নং-৭২৯৫/এ, আতাহার আলী (৩২)’কে আইনের আওতায় আনার জন্য তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে জানতে পারে যে, তিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানাধীন চৈতাজানি এলাকায় অবস্থান করিতেছে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ ০১.৩৫ ঘটিকায় র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এর নেতৃত্বে এবং স্কোয়াড কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এটিএম আমিনুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানাধীন চৈতাজানি গ্রামস্থ কয়েদীর নিজ বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার পলাতক কয়েদী নং ৭২৯৫/এ, আতাহার আলী (৩২), পিতা-আব্দুর রহমান, সাং- চৈতাজানি, থানা- শ্রীবরদী, জেলা-শেরপুর’কে আটক করতে সক্ষম হয়। ধৃত কয়েদী শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার মামলা নং-১৯৫/১৫, ধারা -নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইন (সং/০৩) এর ১১(খ), যৌতুকের জন্য গুরুতর আঘাতের মামলায় ১২ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও ২০,০০০/- টাকা অর্থদণ্ডের পলাতক কয়েদী।গ্রেফতারকৃত কয়েদীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ঘটনার দিন তিনি অন্যান্য হাজতী ও কয়েদীদের সাথে কৌশলে শেরপুর জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যান এবং শেরপুর জেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে থাকেন।ধৃত কয়েদীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।জেল পলাতক এসব হাজতী ও কয়েদীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।