
এস এম জয় ই মামুন বিশেষ প্রতিবেদক।।গ্যাস সরবরাহ না করেই গত এক যুগে মানিকগঞ্জ অঞ্চলের জনগণের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বিল নিয়েছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি। গ্যাসের দাবিতে মিছিল মিটিং আনন্দোলন করেও কোন লাভ হয়নি। আবাসিক গ্রাহকদের বরং গ্যাসের দাবিতে মিছিলে পুলিশের গুলিতে অহত হয়েছে অনেক গ্রাহক। পুলিশের মামলায় জেল জুলুম হয়রানির শিকার হয়েছে গ্রাহকেরা। দিশেহারা গ্রাহকেরা এখনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ব্যস্ত। ২০১০ সাল থেকেই মানিকগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ কমতে থাকে এবং ২০১২ সালের প্রথম দিকে আবাসিক গ্রাহকরা সপ্তাহে শুধু শুক্রবার গ্যাস পেত কিন্তু বছরের মাঝামাঝিতে গ্যাস সরবরাহ শূন্যের কোটায় চলে আসে। গ্যাস না পেয়েও বছরের পর বছর নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে থাকা গ্রাহকরা অসহায় হয়ে পরেছে। মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার গ্রাহক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন প্রায় একযুগ কোন গ্রাস নেই কিন্তু আমাদের কাছ থেকে বিল নেয়া হয়েছে।এগুলো দেখার কি কেউ নাই এটাতো আমাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। বোয়ালীয়া এলাকার এক গৃহিণী ইয়াছমিন আক্তার বলেন ১২ বছর আগে মাঝে মধ্যে গভীর রাতে গ্যাস আসত আর আমরা রাত জেগে হলেও তা দিয়ে রান্নাবান্না করতাম। গ্যাস নাই অথচ সরকার নিয়মিত বিল নিচ্ছে এটা কি নাগরিকদের সাথে অন্যায় নয়? মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জয়রা নতুন বস্তির গ্রামের এক গ্রহিণী মাহামুদা হাবিব মনি বলেন বাংলাদেশের গ্যাসের দাম ১৪০০ টাকা আর ভারতের গ্যাসের দাম ৬০০ টাকা আমরা চাই আমাদের দেশে গ্যাসের দাম কমানো হোক আর বাংলাদেশ থেকে ভারতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করা হোক। দুর্নীতি বিষয়ক সংবাদ সংস্থার ডেপুটি চিফ রিপোটার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন যেহেতু পাইপলাইনে গ্যাস সরবারহ সমস্যা হচ্ছে সেক্ষেত্রে শিল্প করখানার মেইন লাইন থেকে একটু সংযোগ দিলেই হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকার পতনের পর ঢাকা-আরিচা লাইনের শিল্পকারখানা কম চলায় গ্যাস কিছু কিছু লক্ষ করা যাচ্ছে। আর যদি নাই হয় সে ক্ষেত্রে সিলিন্ডার গ্যাসে ভর্তুকি দিয়ে দাম জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রেখে বিক্রয় করা হোক। মানুষ বিল দিবে অথচ গ্যাস পাবে না আবার গ্যাসের দাবিতে মিছিল করলে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে এখানেই সরকারের নৈতিক পরাজয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিতাস গ্যাসের এক কর্মী কথা বলেন, এমনিতেই তো গ্যাস নাই তার পরেও এমন সব প্রভাবশালী ব্যক্তি এসে শিল্পে নতুন সংযোগ চান এবং নিয়েছেন যা আমাদের কিছুই করার নাই।