
বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ছোট তালতলী এলাকায় বসতঘরে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বরগুনার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ছোট তালতলী এলাকার শিউলী বেগম (৪২)। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৪৮/৪৫৭/৩৮০/৪৫২/৫০৬(২য়) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলা নং১৪৯৪/২৬. মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পরীরখাল বাজারের দক্ষিণ পাশে গাবতলী খালের পাড়ে বাদীর বসতঘরে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা দা, ছেনা, বাঁশের লাঠি, জিআই পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বসতঘরের পেছনের দরজা ভাঙচুর করে ঘরে প্রবেশ এবং বিভিন্ন মালামাল তছনছ করার অভিযোগ রয়েছে। মামলার আবেদনে বাদী দাবি করেন, হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, বিদেশি শাড়ি, হাঁসসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান। এতে মোট প্রায় ৬ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী গরু ও হাঁস-মুরগির খামারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা হামলা ও লুটপাট চালান বলে তিনি দাবি করেছেন। ঘটনার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন বিএনপি নেতা মো. ইমদাদুল হক মিলন (৩৫), মো. নিজাম খান (৪৮), মো. নানা মিয়া (৪২), মো. আঃ মন্নান খান, মো. হাবিব এবং মো. অলি উল্লাহ সুজন (২৮)। তাদের সবার বাড়ি ছোট তালতলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড, ৯ নম্বর বালিয়াতলী ইউনিয়ন, বরগুনা। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদীর দাবি, ঘটনার পর তিনি বরগুনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে আইনজীবীর পরামর্শে আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলার আবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।