
শহর থেকে গ্রাম—দেশের প্রায় সর্বত্রই বেড়ে চলেছে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা। দিনের পাশাপাশি রাতেও সড়ক, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করছে এসব কুকুর।ফলে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে, পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে ভিড় করছেন আক্রান্তরা। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ এবং এর অন্যতম প্রধান বাহক হলো আক্রান্ত কুকুর।বেওয়ারিশ কুকুরের আরেকটি বড় সমস্যা হলো শব্দদূষণ ও মানসিক অস্বস্তি। গভীর রাতে দলবদ্ধভাবে ঘেউ ঘেউ করার কারণে অনেক মানুষের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া সড়কে হঠাৎ কুকুর চলে আসায় মোটরসাইকেল ও যানবাহন দুর্ঘটনার ঘটনাও বাড়ছে।অনেক এলাকায় ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে অপসারণ না হওয়ায় কুকুরের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডাস্টবিন ও খোলা জায়গায় খাবারের উচ্ছিষ্ট সহজলভ্য হওয়ায় তারা দ্রুত বংশবিস্তার করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র কুকুর নিধন নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও মানবিক সমাধান প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, নিয়মিত টিকাদান, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। অন্যথায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শাহবাজ খান (নির্বাহী পরিচালক)
(মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কেন্দ্র)