
সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা হলো—প্রেস ক্লাবের সদস্য হলেই তিনি সাংবাদিক।কিন্তু বাস্তবতা এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও গভীর।সাংবাদিকতা একটি পেশা, একটি দায়িত্ব, এবং সর্বোপরি একটি নৈতিক অঙ্গীকার।শুধুমাত্র কোনো প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ অর্জন করলেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যান—এমন ধারণা সঠিক নয়।সদস্যপদ বনাম পেশাগত পরিচয় প্রেস ক্লাব মূলত একটি সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, যেখানে সাংবাদিকরা একত্রিত হন, মতবিনিময় করেন এবং পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে অ-সাংবাদিক ব্যক্তিরাও বিভিন্ন কারণে প্রেস ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। ফলে সদস্যপদ নিজেই সাংবাদিকতার প্রমাণ নয়।সাংবাদিক হওয়ার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই, সম্পাদনা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। অর্থাৎ, পেশাগত কাজই এখানে মূল পরিচয় নির্ধারণ করে অ্যাক্রেডিটেশন: স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতা।।সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে “অ্যাক্রেডিটেশন” একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সাধারণত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, যা একজন সাংবাদিকের পেশাগত অবস্থান নিশ্চিত করে।অ্যাক্রেডিটেশন প্রাপ্ত সাংবাদিকরা সরকারি অনুষ্ঠান, প্রেস ব্রিফিং বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশের বিশেষ সুযোগ পান।তবে অ্যাক্রেডিটেশন না থাকলেও কেউ সাংবাদিক হতে পারেন, যদি তিনি নিয়মিত কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমে কাজ করেন। আবার অ্যাক্রেডিটেশন থাকলেই যে তিনি নৈতিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক—তা-ও নিশ্চিত নয়।বাস্তবতা: পেশার সংকট ও অপব্যবহার : বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রেস ক্লাবের সদস্যপদকে ব্যবহার করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হয়। কেউ কেউ “সাংবাদিক” পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো, সুবিধা নেওয়া কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও উঠে আসে।এ ধরনের প্রবণতা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। নৈতিকতা সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি :সাংবাদিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নৈতিকতা। সত্য যাচাই, নিরপেক্ষতা, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দায়িত্বশীলতা—এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃত সাংবাদিকতা।একজন প্রকৃত সাংবাদিক—তথ্য যাচাই ছাড়া কিছু প্রকাশ করেন না কোনো পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকার চেষ্টা করেনজনস্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখেন পেশাগত সততা বজায় রাখেন,প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ এই গুণগুলোর কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।উপসংহার : সুতরাং, প্রেস ক্লাবের সদস্য হওয়া মানেই সাংবাদিক হওয়া নয়।সাংবাদিকতা একটি কাজ, একটি দায়িত্ব এবং একটি নৈতিক অবস্থান—যা কেবলমাত্র সদস্যপদ দিয়ে নির্ধারিত হয় না।প্রকৃত সাংবাদিক পরিচয় নির্ভর করে তার কাজ, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার ওপর।সমাজে সত্য ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাগত মানদণ্ডের কঠোর অনুসরণ। শুধুমাত্র পরিচয়ের বাহ্যিক চিহ্ন নয়, বরং কাজের মাধ্যমেই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
এসকে জামান
সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক