
সমাজে একটি প্রচলিত কিন্তু ক্ষতিকর প্রবণতা হলো—অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে নিজেকে বড় বা পরিণত প্রমাণ করার চেষ্টা। অনেকেই মনে করেন, অন্যের ভুল, দুর্বলতা বা ব্যক্তিগত বিষয় তুলে ধরে সমালোচনা করলে তারা জ্ঞানী, সাহসী বা সত্যবাদী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং নৈতিক দিক থেকে তা গ্রহণযোগ্য নয়।প্রথমত, পরনিন্দা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে।এটি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস, হিংসা ও শত্রুতার জন্ম দেয়।একজন ব্যক্তি যখন অন্যের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে, তখন সে নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে তার ব্যক্তিগত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।দ্বিতীয়ত, নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্য অন্যকে ছোট করা একটি নেতিবাচক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। প্রকৃত পরিণত ব্যক্তি কখনোই অন্যেকে নিয়ে সমালোচনা করে না।নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে মহান বা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন না। পরিণত মানসিকতা হলো আত্মসমালোচনা, ধৈর্য ও সহনশীলতার সমন্বয়।তৃতীয়ত, ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও পরনিন্দা একটি নিন্দনীয় কাজ। এটি মানুষের চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ‘মুনাফেকি’ বা দ্বিচারিতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়—যেখানে ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে ভালো আচরণ প্রদর্শন করলেও অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করে।সবশেষে বলা যায়, অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে নিজেকে বড় বা পরিণত ভাবা কখনোই সঠিক পথ নয়। বরং নিজের আচরণ, চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধ উন্নত করার মধ্যেই প্রকৃত মহত্ত্ব নিহিত। একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য আমাদের উচিত ইতিবাচক চিন্তা, পারস্পরিক সম্মান ও সহানুভূতির চর্চা করা।উপসংহার:নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্য নয়, বরং একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। অন্যের সমালোচনার পরিবর্তে নিজের উন্নয়নই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
শাহবাজ জামান
সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক