1. admin@dainikdigantor.com : admin :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এমসিএসকে পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ইনডোর সুইমিং পুল ও জিমনেশিয়াম নির্মাণের আশ্বাস বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈশার সুস্থতা কামনা রাতে ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করবেননা, কারন গভীর রাতের ফোন হয় আপনাকে বাঁচানোর জন্য নয়তো অন্য কাউকে বাচানোর জন্য আসে! চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী খুলনা রূপসায় প্রতিপক্ষের হা”মলায় হাসান ওরফে বিহারীর মৃ”ত্যু স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করলেন এমপি আমির এজাজ খান রংপুরে ভাত খাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন সিপাহি আল-আমিন! দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলছে বিটাক: কারিগরি শিক্ষায় আত্মনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা বিবৃতি তালতলীতে রাতের আঁধারে যোগাযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ, দুর্ভোগে ১২ টি পরিবার

বাবা: না বলা ভালোবাসার মহাকাব্য : শাহবাজ খান

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

 

মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলোর গভীরতা শব্দে মাপা যায় না। “বাবা” সেই সম্পর্কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নীরব, অথচ সবচেয়ে শক্তিশালী একটি নাম।তিনি যেন বিশাল এক বটগাছ—নিজে রোদ, ঝড় আর বৃষ্টির আঘাত সহ্য করে সন্তানদের জন্য ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর ভালোবাসা অনেক সময় মুখে উচ্চারিত হয় না, কিন্তু প্রতিটি দায়িত্ব, প্রতিটি ত্যাগ আর প্রতিটি নির্ঘুম রাত সেই ভালোবাসারই প্রকাশ।সমাজে মায়ের ভালোবাসার গল্প যতটা আলোচিত হয়, বাবার ভালোবাসা ততটাই নিভৃতে থেকে যায়। কারণ বাবারা সাধারণত আবেগ প্রকাশে অভ্যস্ত নন।তাঁরা “ভালোবাসি” শব্দটি কম বলেন, কিন্তু সন্তানের সামান্য জ্বর, কাশি কিংবা ব্যথায় রাতভর জেগে থাকেন। সন্তানের কষ্টে তাঁদের বুকের ভেতর যে অস্থিরতা জন্ম নেয়, তা অনেক সময় চোখের ভাষায়ও প্রকাশ পায় না। অথচ সেই উদ্বেগই প্রমাণ করে, সন্তানের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা কতটা গভীর।একজন বাবা যখন বাজারে যান, তখন নিজের প্রয়োজনের আগে সন্তানের চাহিদার তালিকাই তাঁর মাথায় ঘোরে। সন্তানের জন্য নতুন জামা, জুতা কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে তিনি দ্বিধা করেন না। কিন্তু নিজের পুরোনো শার্ট, ছেঁড়া স্যান্ডেল কিংবা ভাঙা চশমার ফ্রেম বদলানোর কথা বারবার পিছিয়ে দেন। কারণ তাঁর কাছে নিজের চেয়ে সন্তানের প্রয়োজনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই আত্মত্যাগকে অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করেন না, কিন্তু একটি পরিবারের ভিত্তি গড়ে ওঠে ঠিক এই নীরব ত্যাগের ওপর।বাবার জীবন যেন এক অবিরাম সংগ্রামের নাম। ভোরের আলো ফোটার আগেই কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়া, দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করা, পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা—সবকিছুই তিনি করেন সন্তানদের মুখে হাসি দেখার জন্য। নিজের স্বপ্ন, শখ কিংবা ব্যক্তিগত ইচ্ছাগুলোকে অনেক সময় তিনি বিসর্জন দেন, যাতে সন্তানরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায়।বাস্তবতা হলো, সন্তানেরা বড় হওয়ার পর প্রায়ই বাবার এই অদৃশ্য ত্যাগগুলো বুঝতে শেখে। তখন উপলব্ধি হয়, যে মানুষটি কখনো নিজের কষ্টের কথা বলেননি, তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়। তাঁর কঠোর শাসনের আড়ালে ছিল সীমাহীন মমতা, আর তাঁর নীরবতার ভেতরে ছিল অফুরন্ত ভালোবাসা।বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের অর্থনৈতিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাবারা যে দায়িত্ব পালন করেন, তা শুধু পারিবারিক নয়, সামাজিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।একজন বাবার ত্যাগ, শ্রম ও মূল্যবোধই অনেক ক্ষেত্রে একটি সন্তানের চরিত্র গঠনের ভিত্তি তৈরি করে।বাবা আসলে কোনো সাধারণ মানুষ নন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের নাম, একটি নিরাপদ আশ্রয়ের নাম, একটি নির্ভরতার নাম। তিনি সেই মানুষ, যিনি নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। তিনি সেই নীরব যোদ্ধা, যার ভালোবাসা উচ্চারিত না হলেও প্রতিটি কাজে, প্রতিটি ত্যাগে এবং প্রতিটি উদ্বেগে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে বাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়তো খুব সহজ নয়। তবুও মনে রাখা জরুরি—যে মানুষটি নিজের প্রয়োজন ভুলে আমাদের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের জন্য কোনো বিশেষ দিনের অপেক্ষা করা উচিত নয়।কারণ বাবা মানে শুধু একজন অভিভাবক নন; বাবা মানে জীবনের সবচেয়ে বড় ছায়া, সবচেয়ে শক্তিশালী ভরসা এবং সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আরেক নাম।
শাহবাজ খান 
সম্পাদক দৈনিক দিগন্তর

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক দিগন্তর © বাজ এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।। Regi No-280138  
Theme Customized By Shakil IT Park