
বিশেষ প্রতিনিধি।।সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারের অনুকূলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে ৬৬ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। নিহত-আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা ও খুলনায় পৃথক অনুষ্ঠানে মোট ১৪টি পরিবারের হাতে এই চেক হস্তান্তর করা হয়।দিনের প্রথম ভাগে সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৬টি পরিবারের হাতে চেক প্রদান করা হয়। পরে দুপুর ৩টায় খুলনা বিআরটিএর কনফারেন্স রুমে আরও ৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) জনাব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন—“সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বা আহত পরিবারের দুঃখ-কষ্ট কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সহায়তা তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সামান্য হলেও অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”তিনি আরও জানান, স্থায়ী অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল), খুলনা জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।বক্তারা বলেন, প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।এ কারণে সরকারিভাবে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সকলকে সচেতন হতে হবে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এ সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একই সঙ্গে দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে এ পর্যন্ত সারা দেশে শতাধিক পরিবারকে ৭৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত অভিযোগ ও তদন্ত শেষে যোগ্য পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও সচেতন মহল মনে করে— কেবল সহায়তা নয়, দুর্ঘটনা হ্রাসে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।