
মানুষের জীবনে রিজিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জন্মের আগেই মহান আল্লাহ প্রতিটি মানুষের রিজিক নির্ধারণ করে রেখেছেন। পৃথিবীর কোথায়, কোন মাধ্যমে এবং কতটুকু রিজিক একজন মানুষ পাবে—সবকিছুই আল্লাহ তাআলার ইলম ও ফয়সালার অন্তর্ভুক্ত। তাই একজন প্রকৃত মুমিন কখনো রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করে না; বরং সে বিশ্বাস করে, “আমার জন্য যা নির্ধারিত, তা কোনো শক্তি বন্ধ করতে পারবে না।”ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ।পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন—“পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।” (সূরা হুদ: ৬) এই আয়াত একজন মুমিনের অন্তরে গভীর প্রশান্তি সৃষ্টি করে। কারণ সে জানে, মানুষের ভয়ভীতি, জেল-জুলুম, হামলা-মামলা কিংবা ষড়যন্ত্র কখনো আল্লাহর নির্ধারিত রিজিক বন্ধ করতে পারে না। যদি রিজিক সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারেও থাকে, আল্লাহ তাআলা তা তাঁর বান্দার কাছে পৌঁছে দেবেন। আর যদি কোনো স্থানে মানুষের জন্য কল্যাণ নির্ধারিত থাকে, তবে সৃষ্টিকর্তা তাকে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।তবে ইসলাম শুধু বসে থেকে ভাগ্যের অপেক্ষা করতে শেখায় না। বরং হালাল উপায়ে চেষ্টা করা, পরিশ্রম করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা—এই তিনটির সমন্বয়ই প্রকৃত তাওয়াক্কুল। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—“তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদেরকে এমনভাবে রিজিক দিতেন যেমন তিনি পাখিদের রিজিক দেন।তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।”— তিরমিজি
এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর ওপর ভরসা মানে অলসতা নয়; বরং সাহস, চেষ্টা এবং দৃঢ় ঈমান নিয়ে এগিয়ে চলা।একজন খোদাভীরু মানুষ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। কারণ সে জানে, মানুষের ক্ষমতা সীমিত কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতা অসীম। জেল-জুলুম কিংবা মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে একজন ঈমানদার ব্যক্তিকে দমিয়ে রাখা যায় না, যদি তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস থাকে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যুগে যুগে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা মানুষ বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহই তাদের সম্মান ও সফলতা দান করেছেন।বর্তমান সমাজে অনেক মানুষ রিজিকের ভয়ে সত্য কথা বলা থেকে পিছিয়ে যায়, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে কিংবা হারাম উপার্জনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অথচ একজন মুমিনের বিশ্বাস হওয়া উচিত—হালাল রিজিক অল্প হলেও তাতে বরকত রয়েছে, আর হারাম উপার্জন সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ডেকে আনে।সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিত আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখা, হালাল পথে উপার্জনের চেষ্টা করা এবং সব অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা। মনে রাখতে হবে, মানুষের ভয় নয়—আল্লাহর ভয়ই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখে, আল্লাহ তার জন্য এমন পথ খুলে দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।পরিশেষে বলা যায়, একজন খোদাভীরু ও রিজিকে বিশ্বাসী মানুষ কখনো অন্যায় শক্তির কাছে পরাজিত হয় না। কারণ তার হৃদয়ে থাকে এই দৃঢ় বিশ্বাস—“আমার রিজিক আমার রবের হাতে, আর আমার নিরাপত্তাও তাঁরই কাছে।”
শাহবাজ জামান
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী