
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে।মেয়েটির পরিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।তবে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে অভিযোগ তুলে নিতে হুমকিধামকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত আল আমিন মাদবর ও তার পরিবার।এ ঘটনায় ওই স্কুল শিক্ষার্থীর বাবা শুক্রবার ২৫ জুলাই রাতে বাদী হয়ে আল আমিন মাদবরকে (৩৫) আসামি করে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযুক্ত আল আমিন ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সুর্য মনি এলাকায় দীল মোহাম্মদ মাদবরের ছেলে।পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার ২৫ জুলাই সকালে ওই ছাত্রী নিজ ঘরে বই পড়ছিলেন।এসময় প্রতিবেশী আল আমিন ঘরে ঢুকে প্রথমে জানতে চায় বাড়ীর সবাই কই আছেন। এরপর একটি পান খেতে চায় অভিযুক্ত আল আমিন। এসময় ওই স্কুল শিক্ষার্থী জানান বাসায় কেউ নেই আপনি চলে জান। এসময় কিছু বুঝে উঠার আগেই ওই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে। একপর্যায়ে গলায় ছুরি ধরে সে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এবং তাকে বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করে। এসময় ছাত্রী চিৎকার চেচামেচি করেন এবং নিজেকে রক্ষায় তাদের ঘরে থাকা বটি দিয়ে অভিযুক্তকে আঘাত করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত আল আমিন পালিয়ে যায়।ছাত্রীর মা বলেন,“আমি অসুস্থ তাই শুক্রবার সকালে আমার মেয়েকে একা রেখে বাবার বাড়ীতে গিয়েছিলাম।পরে এসে দেখি আমার মেয়ে কান্নাকাটি করছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান আঘাতের দাগ। বিষয়টি তাকে জিজ্ঞেস করলে সে আমাকে খুলে বলে। আমার মেয়ে এখনো আতঙ্কে ঘুমাতে পারে না। অভিযুক্ত এর আগেও রাস্তাঘাটে উত্যক্ত করত, কিন্তু আমরা গুরুত্ব দেইনি। এখন আইনের আশ্রয় নিয়েছি। ও যেন কোনোভাবেই পার না পায়। আমার মেয়ে নিজেকে রক্ষায় যদি বটি হাতে না নিতো তাহলে হয়তো বড় ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটে যেতো।”ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন,”আমার মেয়ে স্কুলে খুব ভালো পড়াশোনা করে। তার সাথে যেই অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মেয়েটা এখনও আতঙ্কে আছে, ঘুমাতে পারে না, কিছু খেতে পারে না। আমি একজন অসহায় বাবা হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি—এই ঘটনা যেন ধামাচাপা না পড়ে, দোষীকে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে আর কোনো বাবাকে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্কে থাকতে না হয়।”বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত আল আমিনের বাড়ীতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কথা হয় তার বাবার সাথে। তিনি বলেন, আমার ছেলে দুদিন ধরে বাড়ীতে নেই কাজে গিয়েছে। ঘটনার সাথে আমার ছেলে জড়িত নয়। তদন্ত করে আপনাদের বিচারে যা হয় তা করেন।এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ভেদরগঞ্জ সার্কেল) সৌম্য শেখর পাল বলেন,” এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্ত চলছে। দ্রুতই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে। হুমকির বিষয় এখনো অভিযোগ পাই নি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।