
আব্দুল্লাহ আল মোমিন।।পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের নামে জমি ক্রয় করতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারি ফি দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ভাঙ্গুড়া দলিল লেখক সমিতির অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে, ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ভাঙ্গুড়া উপজেলা আয়তনে প্রায় এক লক্ষ দশ হাজার লোকের বসবাস, ইউনিয়ন ও পৌরসভার জমি ক্রয় বিক্রয়ে সাড়ে ৭% ও সাড়ে ৯% সরকারি ফি নির্ধারণ করা থাকলেও ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর একটি অসাধু চক্র সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নাম ভাঙিয়ে ও বিএনপি দলের নাম ভাঙিয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা আদায় করে চলেছে, সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিএল বাড়ি থেকে আসা এক জমি ক্রেতা ২৫ শতাংশ জমি সাড়ে নয় লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করলে তার কাছ থেকে এক লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা জমির দলিল খরচ বাবদ নেয়া হয়েছে, আরেকজন ক্রেতা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান ৮লক্ষ টাকা দিয়ে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার বাহিরে খাঁন মরিচ ইউনিয়নের মৌজা থেকে জমি ক্রয় করেছি আমার কাছ থেকে এক লক্ষ ২৮ হাজার টাকা দলিল খরচ বাবদ মুহুরী নিয়েছে, সাংবাদিকেরা দলিল লেখকদের চেম্বারে গেলে তাদের আশেপাশেও খুঁজে পাওয়া যায়নি, দলিল লেখক সমিতির দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান দলিল লেখকেরা অতিরিক্ত ফি আদায় করছে না সার্ভিস চার্জ বেড়ে যাওয়ায় দলিল লিখতে কিছুটা খরচ বেড়েছে, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ধারী ব্যক্তির কাছে বিষয়টা জানতে চাইলে তারা জানান দলিল লেখক সমিতির নামে মজিবুর চেয়ারম্যান,সাইফুল ইসলাম ও জাকির হোসেন গঙ্গরা অতিরিক্ত ফি আদায় করছে বলে আমরা শুনেছি, তবে ব্যক্তির দায় দলের উপর চাপানো ঠিক নয়, ভাঙ্গুড়া সাব রেজিস্ট্রারের চেম্বারের দিকে তথ্য জানতে যাওয়ার সময় অফিসের কয়েক কর্মচারী বাধার সৃষ্টি করে, পরবর্তীতে সাব রেজিস্টার কাছে দলিল লিখতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কেহ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেননি তাই আমি কোন কথা বলতে পারছি না, প্রতিবেদকেরা গ্রাহকদের অভিযোগের ভিডিও রেকর্ড আছে বলে তাকে অবহিত করলে তিনি জানান তদন্ত করে দলিল লেখকদের ও সমিতির বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ভাঙ্গুরা উপজেলা বিএনপি’র এক নেতার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন সংগঠনের নাম করে কিছু অসাধুচক্র চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে, জমি ক্রয় করতে আসা সচেতন মহলের দাবি সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত আদায় করলে বৈষম বিরোধী ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে বেইমানি করা হবে বলে জানিয়ে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।