
জয় ই মামুন বিশেষ প্রতিবেদক : শহরের জেলা দায়রা ও জজ আদালতের সামনে থেকে মানিকগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় সড়কে ইউনি ব্লকের আধা কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশ বছর না ঘুরতেই দেবে গেছে।ড্রেন ও ম্যানহোলের আরসিসি ঢাকনা রাস্তার তুলনায় উঁচু রাখায় যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের ফলে বছর না ঘুরতেই রাস্তার এ অবস্থা হয়েছে।তবে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী বলছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত বিল দেওয়ার আগে সব কাজ পুনরায় করিয়ে নেবেন।মানিকগঞ্জ পৌরসভা থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালে দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন (সিআরডিপি-২) প্রকল্পের আওতায় শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল পুনঃখনন ও সৌন্দর্য বর্ধন, শহরের পয়নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি পাইপ ড্রেনেজ, তিনটি ব্রিজ, একটি গণশৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ।কাজের ব্যয় ২৫ কোটি ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪ টাকা ধরা হয়।প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স (জেভি)।চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রকল্পের ব্যয় আরও তিন কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।জেলা দায়রা ও জজ আদালতের সামনে থেকে মানিকগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে পয়নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি পাইপ ড্রেনেজ নির্মাণ করার পর পরিবেশ বান্ধব ইউনি ব্লক দিয়ে রাস্তার কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।তবে ড্রেনের ও ম্যানহোলের ঢাকনা সড়কের চেয়ে উঁচু থাকায় যানবাহনগুলো চলাচলে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।এই সড়কের ৬-৭টি স্থানে দেবে যাওয়ায় আরো বিপাকে পড়েছেন এই পথে চলাচলকারীরা।বৃষ্টির দিনে সেসব জায়গায় পানি জমে থাকতেও দেখা গেছে।আর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পাশেই একটি ড্রেনের ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়ে গেছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে।মোটরসাইকেল চালক রবিন হোসেন রনি বলেন, “ওই সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে বছর না ঘুরতেই বেশ কয়েকটা জায়গা দেবে গর্ত হয়ে গেছে। তার ওপর আরসিসি ড্রেন ও ম্যানহোলের ঢাকনা রাস্তার তুলনায় উঁচু হওয়ায় আমাদের চলাচল করতে অসুবিধা হয়। রাস্তার কাজ ভালো হয়নি। যারা দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন তারাও সঠিক তদারকি করেননি।”খালেদা আক্তার নামের এক পথচারী বলেন, “এমনিতেই মানিকগঞ্জ শহরের সরু রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহন অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। আর নতুন করে যুক্ত হয়েছে ড্রেনের আরসিসি ঢাকনা ও ম্যানহোলের ঢাকনা রাস্তার চেয়ে উঁচু থাকায় মোটসাইকেল, রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় আরো যানজটের সৃষ্টি হয়।”অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরা অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তার কাজ ভালো হয়নি বলে বছর যাওয়ার আগেই এ দশা। সামনে কী হবে আল্লাহ জানেন। গর্ত, উঁচু-নিচু থাকার কারণে ভালো মত গাড়িও চালাতে পারি না।”এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি লাবলু মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।সরকার পতনের পর থেকে তিনি লোক চক্ষর আড়ালে রয়েছেন বলেও এলাকাবাসী জানান।রাস্তার দেবে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী আ ন ম গিয়াজ উদ্দিন দৈনিক দিগন্তর কে বলেন, “এই প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই/তিন মাস রয়েছে। ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল দেওয়ার আগে এই রাস্তায় যেসব সমস্যা হয়েছে তা পুনরায় ঠিক করে নেওয়া হবে।”