
শাওন,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।।ফেসবুকে পরিচয়ের জের ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তরুণীর অর্ধনগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচারের অভিযোগে এলজিইডির এক উপসহকারী প্রকৌশলী গ্রেফতার করেছে মকানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী সদর থানায় পর্ণগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।বুধবার সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।গ্রেফতারকৃত উপসহকারী প্রকৌশলী সামিউল আলীম (২২) ঢাকার সাভার থানার বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী একজন কলেজ শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে ফেসবুকে সামিউল আলিমের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। এর জের ধরে নিয়মিত মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকায় তাদের মধ্যে প্রেমরে সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার পর নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে কথা বলত তারা।ভিডিও কলে কথা বলার সময় বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে ওই তরুণীকে অর্ধনগ্ন হতে বাধ্য করে সামিউল আলিম। একপর্যায়ে ওই তরুণী বুঝতে পারে সামিউলের বিভিন্ন মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছে এবং তার স্বভাব-চরিত্র ভালো নয়। ফলে তাদের প্রেমের সম্পর্কের অবনতি হয়। এতে সামিবুল আলিম ক্ষিপ্ত হয়ে কৌশলে তার মোবাইল ফোনে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী তরুণীর অর্ধনগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রেখেছে বলে হুমকি প্রদান করে। তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক বজায় না রাখলে তাকে নগদ আট লক্ষ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে অর্ধনগ্ন ছবি ও ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এরপর গত ২৮ অক্টোবর বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপে তরুণীর অর্ধনগ্ন ভিডিও শেয়ার করে এবং তরুণীর ছোটবোনের মেসেঞ্জারে লিঙ্ক পাঠিয়ে দেয়।ওই তরুণী দাবি করে, সামিউল আলিম ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাকে চাঁপ প্রয়োগ করে অর্ধনগ্ন হতে বাধ্য করে এবং অর্ধনগ্ন ভিডিও চিত্র ধারণ করে। এসব ভিডিও দিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরী করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফেসবুক পেইজ সহ ফেসবুক মেসেঞ্জার ও মেসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। এতে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদাহানি হয়েছে।এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামীর রিমান্ডের জন্য আদালতে প্রেয়ার দেয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।