1. admin@dainikdigantor.com : admin :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমসিএসকে পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ইনডোর সুইমিং পুল ও জিমনেশিয়াম নির্মাণের আশ্বাস বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈশার সুস্থতা কামনা রাতে ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করবেননা, কারন গভীর রাতের ফোন হয় আপনাকে বাঁচানোর জন্য নয়তো অন্য কাউকে বাচানোর জন্য আসে! চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী খুলনা রূপসায় প্রতিপক্ষের হা”মলায় হাসান ওরফে বিহারীর মৃ”ত্যু স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করলেন এমপি আমির এজাজ খান রংপুরে ভাত খাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন সিপাহি আল-আমিন! দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলছে বিটাক: কারিগরি শিক্ষায় আত্মনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা বিবৃতি তালতলীতে রাতের আঁধারে যোগাযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ, দুর্ভোগে ১২ টি পরিবার

নিম্নমানের ১৬ ট্রাক চাল ফেরত দিলেন খুলনার মানিকতলা সিএসডির ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪
দেশ ও জনতার কথা বলে..

 

এসকে জামান।। ফের শুরু হয়েছে খুলনা অঞ্চলে খাদ্য বিভাগের নৈরাজ্য।গত বোরো মৌসুমের টিআর কাবিখার চালে গুদাম ভরা নিয়ে সিএসডি গুদাম কর্মকর্তারা বিব্রত রয়েছেন।তার মাঝে এবার ফের সেই নৈরাজ্য শুরু করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর সরকারি খাদ্য গুদামের বহুল আলোচিত ওসিএলএসডি জসীম উদ্দীন। চলতি বোরো মৌসুম শুরু হওয়ার পর জীবননগর এলএসডি গুদাম থেকে আলোচিত জসীম উদ্দীন যে চাল মহেশ্বরপাশা সিএসডি গুদামে পাঠিয়েছেন নির্দেশ বর্হিভূত নিম্নমানের হওয়ায় সিএসডি গুদামের ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন সেই চাল ফেরত দিয়েছেন।সূত্র মতে,খুলনা বিভাগে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বদলি বাণিজ্যের হোতাদের খপ্পরে পড়ে পোস্টিং নেওয়া ওসিএলএসডিদের অনৈতিকতা থামানোই যাচ্ছে না।মিলারদের অগ্রিম বিল দেওয়া, চলাচলসুচি করিয়ে সরাসরি বাজার থেকে চাল কিনে প্রাপক কেন্দ্রে পাঠানো সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত কর্মযজ্ঞ হিসেবে চালিত হচ্ছে। যেন দেখার কেহ নেই। দুর্নীতি এতোটাই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে যে একটি ধরা পড়লে কুশিলব সবাই একযোগে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেন।এমনই বদলি বাণিজ্যের অন্যতম একজন হচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার ওসিএলএসডি জসীম উদ্দীন। চাকুরিকালীন বিগত সময়ে ঝিনাইদহের ওসিএলএসডি থাকাকালীন অনিয়মের কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ঘুম হারাম করে তিনি আরামে ছিলেন।কর্তৃপক্ষ তখন কুশিলবদের সহায়তায় তাকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।কিন্তু সেই কর্মকর্তাকেই এবার চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার ওসিএলএসডি করে পাঠানো হয়েছে।গুঞ্জন রয়েছে নজরানা দিয়েই অতীতকে মুছে তিনি এই প্রাইজ পোস্টিং পেয়েছেন। কাজেই তিনি তো বেপরোয়া গতিতেই চলবেন। এবারের বোরো মৌসুমে খুলনা বিভাগের জীবননগরে বোরো সংগ্রহে বরাদ্দকৃত চাল খুলনা সিএসডিতে ডেসপাস দেয়ার অনুমতি নেন। অভিযোগ আছে ওসিএলএসডি মিলারদের সাথে রফা করে সরকারি বিনির্দেশ বহিভূত চাল গুদামে না উঠিয়ে মহেশ্বরপাশা সিএসডিতে পাঠাচ্ছেন।নিম্নমানের চাল কিনে এই কর্মকর্তা সম্প্রতি মহেশ্বরপাশা সিএসডিতে পাঠান। কিন্তু বোরো চালের মান এতোটায় নিম্নমানের যে মহেশ্বরপাশা সিএসডির ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন ওসিএলএসডি জসিম উদ্দীনের পাঠানো ১৬ ট্রাক নিম্নমানের চাল ফেরত দেন।অভিযোগ উঠেছে, যদি সরাসরি যদি গুদাম থেকে গাড়ি লোড দেওয়া হতো তাহলে এতো নিম্নমানের চাল পাঠানো সম্ভব হতো না। কারণ সংগৃহীত চালের মান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক,জীবননগর হতে সংগৃহীত কারিগরী পরিদর্শক পরিক্ষা এবং মান যাচাই করেন। অত:পর বিতরনের উপযুক্ত হলে তবেই ডেসপাচ যাবে। এতগুলো যাচাই সম্পন্ন হওয়ায় পরে। কখনো নির্দেশ বর্হিভূত নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা আবার তা ডেসপাস দেওয়া সম্ভব নয়। এতোগুলো হাত ঘুরে কিভাবে সদ্য সংগৃহীত ঢাল নিম্নমানের হতে পারে। অফিসার ছাড়াও শ্রমিক বা নিরাপত্তা রক্ষীরা তো আছেই। অবশ্য জীবননগর সরকারি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শ্রমিকদের অন্তত: মানবতাবোধ আছে। তারা কখনো খারাপ চাল গ্রহণে সায় দিতো না। তারা জানে এই চাল তাদের মতো গরীব মানুষের জন্য সরকার বিভিন্ন চ্যানেলে সরবরাহ করে থাকে। সিএসডিতেও উপস্থিত শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ বিস্ময়ে দেখেছে গতবারের চালের মান কতোটা খারাপ ছিল। তৎকালীন মহেশ্বরপাশা সিএসডির কর্মকর্তা বজলুর রহমানের অনিয়ম দুর্নীতির স্বাক্ষ্য বহন করছে এই সিএসডি গুদামে রক্ষিত গতবারের বোরো মৌসুমের চাল। যার কিছু ছবি এই নিউজে দেয়া হয়েছে। যা দেখলে পরিস্কার হবে খাদ্য বিভাগের দুর্নীতিবাজদের নৈতিকতা কোথায় যেয়ে ঠেকেছে। বিষয়টি খাদ্য অধিদফতরের ডিজি এবং বর্তমান খুলনা আঞ্চলিক কর্মকর্তার আমলে আনা হয়। গত মৌসুমের ধারাবাহিকতায় এবার জীবননগর এএলএসডি গুলামের আলোচিত ওসিএলএসডি জসীম উদ্দীন ফের শুরু করেছেন সেই খেলা। কিন্তু সিএসডির ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন এবং শ্রমিকদের প্রবল আপত্তির মুখে ১৬ ট্রাক নিয়ে বেশিক্ষণ সিএসভিতে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের প্রশ্ন ছিল একজন অফিসার ভরা মওসুমে নিম্নমানের চাল কিভাবে কিনতে পারেন। কিন্তু সদ্য সংগৃহীত ঢাল পুরাতন নিম্নমাণের কেন, এর জবাব কি ওসিএলএসডি দিতে পারবেন? আড়পাড়া, সাতক্ষীরা, কলারোয়া এসএসডির ঘাটতি, অনিয়ম ঢাকতে যেভাবে কর্মকর্তা এবং কুশিলবগণ একাট্টা হয়ে তৎপরতা চালিয়েছেন এতে মনে হয়েছে ওসিএলএসভির একার পক্ষে এতো বড় ঝুঁকি নেয়া সম্ভব নয়। যদি না কর্মকর্তাগণ যুক্ত না থাকেন। অবক্ষয় কোথায় যেয়ে ঠেকেছে। যার প্রমাণ মেলে সম্প্রতি চালনা গুদামে পাঠানো চালের একটি চালান দিয়ে। মহেশ্বরপাশা সিএসডির হতে চালনা ওসিএলএসডি গুদামে ২ হাজার ৭৮৯ বস্তায় ৮৩ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে। যা খাবার অনুপোযোগী বিধায় চালনা গুদামের ওসিএলএসডি দিবাকর উল্লেখিত ঢাল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি তিনি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনিন্দ্য দাসকে জানান। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনিন্দা দাস সরবরাহকৃত চাল গ্রহণে অসম্মতি জানান। কারণ, কার্গোতে পাঠানো চালের অধিকাংশই খাবার অনুপযোগী। অনেক দেন-দরবার করে অবশেষে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনিন্দ্য দাস কার্গো থেকে বেছে মাত্র ৪৫০ বস্তা ঢাল গ্রহণ করেন। যার পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ মেট্রিক টন। বাকি চাল তিন মেট্রিক টন ছাড় দিয়ে মোংলা গুদামে পাটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কার্গোতে যে চাল ছিল ভিডিও চিত্রে দেখা যায় আর অধিকাংশ চাল ছিল মজুমদার, পদ্মা এবং বেপারীসহ কয়েকটি মিলের।বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে অবহিত করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার খবর মেলেনি। সিএসডির ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। শুনেছি কিছু চাল নিম্নমানের ছিল। যা এখন আর নেই। এখন সব আমন চাল রয়েছে যার মান ভালো। জীবননগর এলএসডি গুদাম থেকে জসীম উদ্দীন যে চাল পাঠিয়েছেন সেটির মানও খারাপ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাঁ ১৬ ট্রাক চাল গ্রহণ না করে ফেরত পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে গতকাল অফিস সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার ওসিএলএসডি জসীম উদ্দীনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন যশোরে।’ তিনি নাকি পরিবার নিয়ে যশোরে থাকেন। মহেশ্বরপাশা সিএসডি গুদাম থেকে ১৬ ট্রাক চাল কেন ফেরত হলো সেটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কোন চাল মহেশ্বরপাশা সিএসডি গুদাম থেকে ফেরত পাঠানো হয়নি। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককের মুঠোফোনে গতকাল রাতে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে মানিকতলা সিএসডি গুদামের ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘জীবননগর এলএসতি হতে যে ১৬ ট্রাক চাল পাঠানো হয় সেটি সরকারি নির্দেশ বর্হিভূত। সে কারণে ওই চাল গ্রহণ করা সম্ভাব হয়নি। নিম্নমানের হওয়ায় সেই চাল ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে, সোমবার’জীবননগর এলএসডি হতে পাঠানো চাল গ্রহণ করা হয়েছে।’ সূত্র মতে, উপরিকাদের ম্যানেজ করে পোস্টিং নেয়া ওসিএলএসডিরা এতটাই বেপরোয়া যে, তারা স্থানীয় তদারকি কর্মকর্তাদের পাত্তাই দিতে চান না। তাদের যেয়াল খুশি মতো কাজ করে একের পর এক পার পেয়ে যাচ্ছেন। তাদের বদলি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে করতে পারেন না। উপর মহলের সুপারিশের প্রয়োজন পড়ে। কাজেই তারা ছোট খাটো কর্মকর্তাদের থোড়াই কেয়ার কেন করবেন? এই বেপরোয়া গতির কারনে চালের মান যেমন অবনমিত হচ্ছে, তেমনি ধানের ক্ষেত্রে কৃষকের চেয়ে ব্যবসায়ী প্রাধান্য পাচ্ছে। চাল যেমন বানিজ্যিক পণ্য হিসেবে খাদ্য ক্রয়কেন্দ্রে দেখা হচ্ছে, ধান ক্রয়ে অনিহা একই পথে হাটার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হোমওয়ার্ক চলছে।অভিজ্ঞ মহলের মতে, প্রসিএলএসডি জসীম উদ্দীন গংকে ঠেকানো না গেলে খুলনা এবং মহেশ্বরপাশা সিএসডি গুদাম বোরো চালের পরিবর্তে টিআর-কাবিখার মত নিম্নমানের চালে ভরে যাবে।বন্ধ হবে না সংগ্রহের নামে লুটপাট বাণিজ্য।।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক দিগন্তর © বাজ এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।। Regi No-280138  
Theme Customized By Shakil IT Park