
নিজস্ব প্রতিবেদক।।এক সময় সাংবাদিকতা ছিল দায়িত্ব, সততা ও জনস্বার্থ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা, মানুষের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখা এবং সত্য প্রকাশ করাই ছিল সাংবাদিকদের মূল কাজ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সাংবাদিকতার মৌলিক জ্ঞান বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই অনেকেই নামের আগে “সাংবাদিক” পরিচয় ব্যবহার করছেন। এতে করে প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষও।শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই এখন ব্যানার, ভিজিটিং কার্ড কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় নানা পেশার মানুষের নামের আগে “সাংবাদিক” শব্দটি যুক্ত করা হচ্ছে। কেউ সবজি বিক্রেতা, কেউ চায়ের দোকানদার, কেউ ভ্যানচালক, আবার কেউ গ্যারেজ মিস্ত্রী বা রাজমিস্ত্রীর কাজ করলেও নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে প্রকাশ করছেন। অথচ সংবাদ সংগ্রহ, নীতিমালা, তথ্য যাচাই কিংবা সংবাদ লেখার মৌলিক ধারণা সম্পর্কেও অনেকের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু মানুষ ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের উদ্দেশ্যে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন। এতে করে সাংবাদিকতা পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং অপসাংবাদিকতার প্রবণতা বাড়ছে।জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলছেন, সাংবাদিকতা কোনো শখের পরিচয় নয়; এটি একটি দায়িত্বশীল পেশা। সঠিক প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা ছাড়া কেবল একটি কার্ড বা পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিক হওয়া যায় না।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, অনলাইনভিত্তিক কিছু অনিবন্ধিত ও অখ্যাত প্ল্যাটফর্ম সহজেই পরিচয়পত্র দেওয়ায় এ প্রবণতা বাড়ছে। এজন্য গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।তাদের মতে, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা এবং অপব্যবহার ঠেকাতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারে নীতিমালা ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা জরুরি।