1. admin@dainikdigantor.com : admin :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমসিএসকে পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ইনডোর সুইমিং পুল ও জিমনেশিয়াম নির্মাণের আশ্বাস বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈশার সুস্থতা কামনা রাতে ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করবেননা, কারন গভীর রাতের ফোন হয় আপনাকে বাঁচানোর জন্য নয়তো অন্য কাউকে বাচানোর জন্য আসে! চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী খুলনা রূপসায় প্রতিপক্ষের হা”মলায় হাসান ওরফে বিহারীর মৃ”ত্যু স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করলেন এমপি আমির এজাজ খান রংপুরে ভাত খাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন সিপাহি আল-আমিন! দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলছে বিটাক: কারিগরি শিক্ষায় আত্মনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা বিবৃতি তালতলীতে রাতের আঁধারে যোগাযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ, দুর্ভোগে ১২ টি পরিবার

টাঙ্গাইলে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতা এমপি প্রার্থী হামিদুল হক মোহনের মৃত্যু ; রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫

 

মোফাজ্জল হোসেন/টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ এমপি প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন এর মৃত্যু হয়েছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকগণ পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদুল হক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর। প্রবীণ এই রাজনীতিক আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস জানান, ১২ অক্টোবর দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে, তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল-৬ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেন নেতা হামিদুল হক মোহন। একই দিনে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন তিনি। এরপর প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে ২০অক্টোবর সোমবার বিকেলে দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নে যান। সেখানে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন। সভা শেষ করে পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়েন। পরে নেতা কর্মীদের সঙ্গে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে এলাসিন এলাকায় গণসংযোগের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছু দূর যাওয়ার পর অসুস্থ বোধ করেন। তাঁকে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সিসিইউতে তাঁকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।ব্যক্তিজীবনে হামিদুল হক মোহন ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের (ভাষা–মতিন) ভগ্নিপতি। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়ে’সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। রাতে তার মরদেহ টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকার বাসভবনে নেওয়া হয়। হামিদুল হক মোহনের বড় ছেলে মিল্টন হক জানিয়েছেন, জনস্বার্থে পিতার অসম্পূর্ণ কাজকে বাস্তবায়ন করতে আপনাদের সহযোগিতা চাই।২১ অক্টোবর মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলা শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে বাদ যোহর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রদানের পর, জানাযার নামাজ শেষে, বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে হামিদুল হক মোহন এর লাশ দাফন করা হয়। জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ‘সহ তার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যগণ। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে হামিদুল হক মোহনের গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন নাগরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সভাপতি প্রভা রানী শীল। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগে দেউলী গ্রামে শেষ বক্তৃতায় আবেগঘন বক্তব্য দেন মোহন ভাই। তিনি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার মাথার চুল সব পেকে গেছে। তাই মনে করবেন না যে আমি আপনাদের কাজ করতে পারব না। আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। টাঙ্গাইল জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য বলেন, দেশ থেকে একজন পরিবেশ সৈনিক হারালাম। টাঙ্গাইলের প্রাণ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে এমন নেতৃত্ব আর কি খুঁজে পাবো। তার অসম্পূর্ণ কাজগুলো বাস্তবায়ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। হামিদুল হক মোহনের সাথে ঘনিষ্ঠ নেতারা জানান, স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) মাধ্যমে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন হামিদুল হক। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। স্বাধীনতার পর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে ভাসানী ন্যাপ বিএনপির সঙ্গে একীভূত হয়। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালে সভাপতি হন। টানা ১৮ বছর জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। টাঙ্গাইল জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি হামিদুল হক মোহন। এই কমিটির মাধ্যমে সচেতন ও সুধীজনদের সাথে নিয়ে জনস্বার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করেছেন।অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হিসেবে জেলাবাসীর হৃদয়ের স্হান করে নিয়েছিলেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক দিগন্তর © বাজ এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।। Regi No-280138  
Theme Customized By Shakil IT Park