
জয়ই মামুন বিশেষ প্রতিবেদকঃ মানিকগঞ্জ জেলার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা। যেটি একসময় ছিল চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য।সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় সুশাসনের ছোঁয়ায় এই এলাকাটি হয়ে উঠেছে ব্যবসাবান্ধব এলাকা। বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরে গড়ে উঠা পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরা ও ফুটপাতের শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয়েছে আজ চাঁদামুক্ত। হাঁপ ছেড়ে বাঁচছে ব্যবসায়ীরা।স্থানীয়রা বলছেন, এক সময়ের দাপুটে আওয়ামী সরকারের আমলে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেকের প্রত্যক্ষ ছত্র-ছায়ায় এই ব্যবসা কেন্দ্র থেকে তোলা হতো বিপুল অঙ্কের চাঁদা। তা ছিল টপ দ্যা টাউন। জাহিদ মালেকের খলিফারা হয়ে উঠেছিল কোটি টাকার মালিক। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর গা ঢাকা দেয় সেই চাঁদাবাজ চক্র। বর্তমানে জেলা বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতিতে এই অবস্থা রীতিমতো বদলে গেছে।মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতার দৃঢ় অবস্থান এবং পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর নজরদারিতে চাঁদাবাজরা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারছে না।পরিবহন ব্যবসায়ী ও চালকরা জানাচ্ছেন, আগে আয়ের সিংহভাগ চাদাঁই চলে যেত জাহিদ মালেকের দোসর চাঁদাবাজদের পকেটে । এখন কেবল পৌর টার্মিনাল চার্জ দিলেই লাভে সহিত ব্যবসা পরিচালনা করা যাচ্ছে।কয়েকজন হকার ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বলেন, আওয়ামী লীগের সময় চাঁদা দিতে দিতে নিঃস্ব হয়েছিলাম। এখন ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শান্তিতে খেতে পরে ভালই আছি। তবে এই অবস্থাই যেন থাকে সবসময় থাকে । আগের রুপে যেন আর না ফিরে আসে। ভয়ও লাগে কারণ অনেক জায়গায় শুধু পাল্টেছে মানুষ, দল আর চাঁদার ধরণ। সেই সঙ্গে বেড়েছে চাঁদার পরিমাণও। তাই রাজনৈতিক দল ও প্রশাসন যেন এই দিকটা একটু সুদৃষ্টি রাখে তার দাবিও জানান।পৌর বাস টার্মিনালের ইজারাদার ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন জানান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবহন থেকে শুধুমাত্র পৌর পার্কিং চার্জ নেওয়া হচ্ছে। এরপরও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিগত সরকারের আমলে যারা ইজারা নিয়েছিল তারা জোড় করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হতো। যা ছিল পরিবহন ব্যবসায়ীদের জন্য কষ্টদায়ক।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা অত্যন্ত বিচক্ষণ নেত্রী। তার নেতৃত্বে তার দল ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করায় চাঁদাবাজরা আর ফিরে আসতে পারছে না।জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা বলেন, মানিকগঞ্জে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের কোনো ঠাঁই নেই। জেলা শহরের একমাত্র বাসস্ট্যান্ড যেন আবার অন্ধকারে না ডুবে যায়, সেটা নিশ্চিত করতে আমরা সদা সতর্ক। জনগণের রক্ত-ঘামে অর্জিত অর্থ লুটেপুটে খাওয়ার রাজনীতি আমরা বিশ্বাস করি না। আমি নিজে মাঠে থেকে খোঁজখবর রাখছি, যেন ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারে। এই অঞ্চলকে আমরা গড়তে চাই উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার মডেল হিসেবে।পুলিশ সুপার মোসাম্মৎ ইয়াছমিন খাতুন বলেন, মানিকগঞ্জে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা এক বিন্দু ছাড় দিচ্ছি না। শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার চাঁদাবাজদের গতিবিধি আমরা নজরে রেখেছি। কেউ চাঁদা তোলার চেষ্টা করলেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা জনগণের পাশে আছি ও থাকবো। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও চাঁদামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে যা যা করার দরকার পুলিশ প্রশাসন সবটাই করবে।