
দিগন্ত রিপোর্ট।। খুলনার মহেশ্বরপাশা মানিকতলা খাদ্য গুদাম থেকে দুই ট্রাক গম ইনভয়েস ছাড়া বের করার অভিযোগে খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আরিফ হোসেনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে মানিকতলা খাদ্য গুদামের সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।পরে দৌলতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেনের মধ্যস্থতায় শ্রমিকরা সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তবে গ্রেপ্তার সভাপতি মো. আরিফ হোসেনকে মুক্তি না দিলে পুনরায় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।শ্রমিকদের বিক্ষোভের পাশাপাশি সকাল থেকেই মানিকতলা খাদ্য গুদামের সব ধরনের লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে গুদামের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে মানিকতলা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে থাকা সাইলো থেকে দুই ট্রাক গম কোনো ইনভয়েস ছাড়াই অবৈধভাবে গেট দিয়ে বের করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সাইলো কর্তৃপক্ষ গমবোঝাই ট্রাক দুটি আটক করে। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।আটক ব্যক্তিরা হলেন—মানিকতলা খাদ্য গুদাম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. আরিফ হোসেন, সাইলোর মেশিনম্যান মেহেদী হাসান এবং এলইউ শাখার ইনভয়েস প্রস্তুতকারী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।এদিকে এ ঘটনার খবর মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সভাপতিসহ তিনজনকে আটকের প্রতিবাদে প্রথমে গুদামের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন তারা। পরে খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।এ বিষয়ে কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, সম্প্রতি মানিকতলা খাদ্য গুদাম থেকে গম চুরির বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আরিফ হোসেনের নাম উঠে আসায় তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।তিনি আরও জানান, গম চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।একদিকে গম চুরির অভিযোগে পুলিশের তদন্ত, অন্যদিকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি—সব মিলিয়ে মানিকতলা খাদ্য গুদাম এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।