1. admin@dainikdigantor.com : admin :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনায় আল-আমিন নামে এক মাদক কারবারিকে ৪৯২ বোতল ফেন্সিডিল সহ আটক করেছে ডিএনসি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট যাচ্ছেন এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ খুলনা মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ খুলনা নগরীর রায়েরমহলে তাঁতি দলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীর বিদেশ সফর বাতিল

খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

 

খুলনা প্রতিনিধি।।খুলনার বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের সম্পদ রক্ষা এবং শিল্পাঞ্চলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এ অঞ্চল থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আড়ালে শিল্পকারখানায় ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনায় অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি সিজন-২-এর উদ্বোধন উপলক্ষে মোংলা থেকে বাগেরহাট হয়ে খুলনায় আসার পথে ফকিরহাটের কাটাখালী, রূপসার কুদির বটতলা ও নগরীর ডাকবাংলায় পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব পথসভায় উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিল্পায়ন, শ্রমিকদের অধিকার, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় জনদুর্ভোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ও সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে পথসভাগুলোতে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়।ডাকবাংলায় প্রটোকল ভেঙে জনতার মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী সফরসূচিতে না থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অনুরোধে নগরীর ডাকবাংলা মোড়ে পথসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে তাঁকে বহনকারী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা বাসটি ডাকবাংলা মোড় অতিক্রম করার সময় খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন মঞ্চ থেকে তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাস থেকে নেমে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রটোকল উপেক্ষা করে সরাসরি হেঁটে জনতার কাছে এগিয়ে যান এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন। পরে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে নির্মিত মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন তিনি।পথসভায় প্রধানমন্ত্রী খুলনার বন্ধ শিল্পকারখানা দ্রুত চালু করে এ অঞ্চলের শিল্পাঞ্চল হিসেবে অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।এ সময় একই মঞ্চে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি খুলনার সার্বিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। এর আগে বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।পথসভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।এর আগে দুপুরে রূপসার কুদির বটতলায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল এ পথসভার আয়োজন করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান এবং সদস্য সচিব জাবেদ মল্লিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। বন্ধ মিল-কারখানা চালু করা, বিনিয়োগকারীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে উৎসাহিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়েই তিনি কাজ করতে চান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুই সপ্তাহের মধ্যে দুইবার এ অঞ্চলে আসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, শুধু খুলনা নয়, এ অঞ্চল থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা স্থাপন করতে চায় সরকার। শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।শ্রমিকদের দাবির আড়ালে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
কাটাখালী ও কুদির বটতলার পথসভায় শ্রমিকদের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বেতন কাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বোর্ডের। কিন্তু কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি শ্রমিকদের দাবিকে সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং কারখানা ভাঙচুর করছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় কেউ কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে দিয়েছে। তারাই বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে। অথচ দাবির আড়ালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তারা কারখানা ভাঙচুর করেছে।তিনি আরও বলেন, যারা ১৬ বছরেও মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।দেশের শিল্পকারখানাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কলকারখানা ধ্বংস হলে দেশের অর্থনীতিও ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই কোনোভাবেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।তিনি বলেন, মিল-কলকারখানা দেশের সম্পদ। এগুলো ধ্বংস হলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। সীমান্তের ওপার থেকে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে হবে। এ জন্য জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দেশে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।খুলনার উন্নয়নে শিল্প, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলায় গুরুত্ব
দিনব্যাপী পথসভাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে খুলনার শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোও উঠে আসে। বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার সংকট নিরসনের আশ্বাস দেন তিনি।বিশেষ করে খুলনার একসময়ের সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। শিল্পকারখানা সচল হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমন পরিকল্পনার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।মোংলা থেকে বাগেরহাট হয়ে খুলনায় আসার পথে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজিত এসব পথসভায় স্থানীয় উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও জাতীয় অর্থনীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।নতুন কুঁড়ি সিজন-২-এর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে খুলনায় তাঁর এ সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং শিল্পাঞ্চলের সমস্যা, শ্রমিকদের দাবি এবং জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে রাজনৈতিক ও জনআলোচনার কেন্দ্রে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক দিগন্তর © বাজ এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।। Regi No-280138  
Theme Customized By Shakil IT Park