
আক্তার হোসেন বাবলু,খুলনা।।খুলনার অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ ও কুখ্যাত ‘আশিক গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য মো. ফয়সাল বাদশাকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬)। বাগেরহাটের চিতলমারীর চাঞ্চল্যকর আমির হামজা হত্যা মামলার এই প্রধান অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬-এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল।আজ ২১ জুন ২০২৬, রবিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন মতিয়াখালী পঞ্চম গলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল বাদশা (৩৩) নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার মো. ফরিদুল ইসলামের ছেলে।র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ পূর্ব শত্রুতার জেরে খুলনার দুর্ধর্ষ ‘আশিক গ্রুপ’-এর সদস্যরা মোটরসাইকেলে করে দলবদ্ধভাবে হামলা চালায় আমির হামজার বাড়িতে। বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেই ঘাতক ফয়সাল বাদশা ও তার সহযোগীরা আমির হামজাকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি চালায়। গুলির শব্দে এলাকাবাসী ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ভিকটিমের মা মেহেরুন্নেসা বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফয়সাল বাদশা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে ছিল। র্যাব-৬-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দেশজুড়ে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঞ্চল্যকর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সবসময় আপসহীন। সেই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফয়সাল বাদশাকে বাগেরহাটের চিতলমারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর আমির হামজা হত্যা মামলার তদন্তে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।