1. admin@dainikdigantor.com : admin :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমসিএসকে পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ইনডোর সুইমিং পুল ও জিমনেশিয়াম নির্মাণের আশ্বাস বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈশার সুস্থতা কামনা রাতে ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করবেননা, কারন গভীর রাতের ফোন হয় আপনাকে বাঁচানোর জন্য নয়তো অন্য কাউকে বাচানোর জন্য আসে! চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী খুলনা রূপসায় প্রতিপক্ষের হা”মলায় হাসান ওরফে বিহারীর মৃ”ত্যু স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘পরিদর্শন কক্ষ’ উদ্বোধন করলেন এমপি আমির এজাজ খান রংপুরে ভাত খাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন সিপাহি আল-আমিন! দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলছে বিটাক: কারিগরি শিক্ষায় আত্মনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা বিবৃতি তালতলীতে রাতের আঁধারে যোগাযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ, দুর্ভোগে ১২ টি পরিবার

কূটনীতি বিজয়ী হলে যুদ্ধের অবসান ঘটে প্রফেসর ড. শেখ আকরাম আলী

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বিশ্বে শান্তি ও অগ্রগতির জন্য কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই জানি, কূটনীতি ব্যর্থ হলে যুদ্ধ শুরু হয়, আর কূটনীতি সফল হলে যুদ্ধ শেষ হয়। বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফল নয়, বরং নিঃসন্দেহে ইসরায়েলের আগ্রাসী মনোভাবের ফলাফল।১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের “ক্যান্সার” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা শক্তিগুলো বহু দশক ধরে এই ক্যান্সারকে লালন-পালন করে মধ্যপ্রাচ্যের শরীরে বিস্তার ঘটতে দিয়েছে—ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে।মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ অতীতে ইসরায়েলের আগ্রাসনের সবচেয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল সিনাই উপত্যকা ও জর্ডানের পশ্চিম তীর দখল করে। যদিও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে মিসরের সেনাবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবুও তারা সিনাই পুনর্দখল করতে ব্যর্থ হয়। পরে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে মিসর সিনাই পুনরুদ্ধার করে।ইসরায়েল কেবল যে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য হুমকি তা-ই নয়, বরং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতাও করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব ফিলিস্তিনিদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলকে উৎসাহিত করেছে—এভাবে তারা শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে তাকে গড়ে তুলেছে।সাম্প্রতিক সময়ে গাজাবাসী ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। ইসরায়েল এমনভাবে গাজাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে যেন শহরটি জনশূন্য হয়ে যায়। গাজাকে ভূমির সাথে সমান করে ফেলা হয়েছে, এবং মানুষজনকে শহর ছেড়ে অনিশ্চিত গন্তব্যে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। কয়েক হাজার শিশু সহ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে।ইসরায়েল তার জন্মলগ্ন থেকেই আরব ও মুসলিম বিশ্বের স্থায়ী শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পশ্চিমা শক্তির সমর্থনে সে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে কাজ করছে।মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কেবল ইরানই সাহসিকতার সাথে এই অপশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইসরায়েল তাকে প্রধান টার্গেট বানিয়েছে। ইরান ইসরায়েলের বৈধতা অস্বীকার করেছে এবং একে মুসলিম বিশ্বের বুকে চাপিয়ে দেওয়া উপনিবেশিক অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করেছে।অপরদিকে, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। বহু দশক ধরে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে পরোক্ষ যুদ্ধ ও প্রক্সি লড়াই চালিয়ে এসেছে।ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মোকাবেলা করে আসছে। ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও অস্ত্র আবিষ্কার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করে আসছে। সম্প্রতি হঠাৎ করে মধ্যরাতে ইরানে হামলা চালিয়ে কয়েকজন জেনারেল ও নিরীহ নাগরিককে হত্যা করেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে।ইরান দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে একগুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তেলআবিব ও জেরুজালেমে বিস্ফোরণ ঘটে, যা ইসরায়েলকে আতঙ্কিত করে তোলে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দেন এবং আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবেন। কিন্তু হঠাৎ মধ্যরাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালান—ইস্পাহান, নাটাঞ্জ ও ফোরদুতে।বিশ্বের প্রায় সব দেশ—বিশেষত রাশিয়া, চীন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ এই হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ফ্রান্স এনপিটির আওতায় কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। জাতিসংঘ মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যার বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তার এই “ধ্বংসের বদলে কূটনীতি” আহ্বান বিশ্বের বহু নেতার কাছেই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট যথার্থই বলেছেন, বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইরান নয়, বরং ইসরায়েলই হারিয়ে যাবে। অনেকেই ইতোমধ্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই ইরান ইসরায়েলের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং সে তার অস্তিত্বের জন্য বাস্তব হুমকিতে পরিণত হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করলেও ইরানই হয়তো তা শেষ করবে। কারণ ইরান লিবিয়া, ইরাক বা আফগানিস্তান নয়—এটি আড়াই হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার অধিকারী একটি রাষ্ট্র।পারস্য সাম্রাজ্য ছিল পৃথিবীর প্রাচীনতম সাম্রাজ্য। কোনো হুমকির কাছে তারা সহজে নত হয় না। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে রক্ষা করতে পারবে না—বরং শিগগিরই নিজেই বিপর্যয়ে পড়বে।ইরান বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তির সমর্থন পেতে পারে, আর যুদ্ধ যদি আরও তীব্র হয়, তবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও উত্তর কোরিয়া ইরানের পাশে দাঁড়াতে পারে। এমনকি ইসরায়েল কেন্দ্র করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ কূটনৈতিক উদ্যোগের সাফল্য এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান দেখতে চায়—আরো বড় সংঘাতের আগেই।যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা এবং অন্য শক্তিগুলোকে এই সংঘাতে টেনে না আনা।আমরা চাই একটি নিরাপদ পৃথিবী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত কোনো নির্দিষ্ট দেশকে অন্ধভাবে সমর্থন না করে বিশ্বশান্তির জন্য কাজ করা।ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে জড়িত সব পক্ষের মধ্যে পুনর্মিলনের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। কূটনীতি জয়ী হোক, যুদ্ধের অবসান ঘটুক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক দিগন্তর © বাজ এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।। Regi No-280138  
Theme Customized By Shakil IT Park