
বর্তমান সময়ে সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা, হেলমেট ব্যবহারের উপর জোর—এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে: একই তৎপরতা কি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ঘুষ ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধ দমনে দেখা যায়?অনেক নাগরিকের অভিমত, ছোটখাটো ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে যেভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেই তুলনায় বড় অপরাধগুলোতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। ফলে জনমনে এক ধরনের হতাশা তৈরি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করেন, যদি প্রশাসনের একই কঠোরতা দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতো, তবে অপরাধীরা ভয়ে পিছিয়ে যেত এবং সমাজে আইনশৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হতো।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সড়ক নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সমাজের বৃহত্তর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে প্রয়োজন। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ না নিলে উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্ত হয় এবং জনগণের আস্থা কমে যায়।এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নাগরিকদের প্রত্যাশা—আইন প্রয়োগে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। শুধু দৃশ্যমান ছোটখাটো অপরাধ নয়, বরং সমাজের গভীরে প্রোথিত বড় অপরাধগুলোর বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা। তাহলেই একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব হবে।
শাহবাজ জামান
সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক