
স্টাফ রিপোর্টার।।জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন এবং স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগে খুলনায় স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।মামলার আসামিরা হলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখিত শেখ মো. ফারুক আহমেদ (৫৯) এবং তাঁর স্ত্রী মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু (৪৯)। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল মামলা দুটি দায়ের করেন।দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ মো. ফারুক আহমেদের নামে ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ১৪৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৫ টাকা। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় ছিল ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ টাকা। ব্যয় বাদে তাঁর নিট আয় বা সঞ্চয় দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৮ হাজার ১৭ টাকা। ফলে তাঁর নিট আয় ও সঞ্চয়ের তুলনায় অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার ১৩২ টাকা বেশি বলে দুদকের অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।এ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী মেমরী সুফিয়া রহমান শুনুর নামে ৭২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩ টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। ব্যয় বাদে তাঁর নিট আয় বা সঞ্চয় দাঁড়ায় ৩৬ লাখ ৪ হাজার ৫৩ টাকা। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর নিট আয় ও সঞ্চয়ের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬০৯ টাকা বেশি।দুদকের অভিযোগ, ফারুক আহমেদের সহায়তায় তাঁর স্ত্রী জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে তা নিজ মালিকানা ও ভোগদখলে রাখেন। এ ছাড়া স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে।মামলার নথি অনুযায়ী মেমরী সুফিয়া রহমান শুনুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং শেখ মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে একই আইনের ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।