খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মরাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

সংসদ নির্বাচন নিয়ে মাঠে নামছে আ.লীগ

এসকে জামান : আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টাগের্ট করে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের দলীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে ঘরের মাঠের রাজনীতি শক্তিশালী করে বিভেদমুক্ত তৃণমূল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দ্রুত সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা সম্মেলন করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় বিভেদ যেনো না বাড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিং করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বলা হয়েছে। নিজ দলের তৃণমূলকে জাতীয় নির্বাচনের উপযোগী করার জন্য আরও বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় প্রধান। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করে ইশতেহার তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রায় এক বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব নির্দেশনা দিয়েছেন।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমন্ত্রিত অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র মতে, সভার শুরুতে সমসাময়িক জাতীয় রাজনীতি ও দলের বিভিন্ন সময় নিয়ে বক্তব্য রাখেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সরকার বিরোধীদের নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে সাংগঠনিক ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দায়িত্বশীল নেতারা তৃণমূল পর্যায়ের রিপোর্ট তুলে ধরেন। প্রায় প্রতিজনের রিপোর্টে তৃণমূলে দ্বন্দ্বের কথা সামনে আনেন। এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও জেলা-উপজেলা সম্মেলনসহ তৃণমূল শক্তিশালী করার বিষয়ে কথা বলেন।

সূত্র আরও জানায়, নেতাদের বক্তব্যের পর দলীয় সাংগঠনিক ও জাতীয় নির্বাচন এবং সরকারবিরোধী অপপ্রচার নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। করোনা সংকটে দলীয় নেতাকর্মীদের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সভার শুরুতে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচন আসছে, কাজেই দলকে আরও শক্তিশালী করে তোলার বিষয়ে আমাদের মনযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, এবারের করোনা ভাইরাসের সময় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেভাবে আর কোনো রাজনৈতিক দলকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি দেখেননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের সময় সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। তবে, কখনো সরকারের একার পক্ষে এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব ছিলো না। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে একটাই কারণে যে, আমাদের একটা শক্তিশালী সংগঠন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আছে। আর সেটা আছে বলেই আমরা এটা করতে সক্ষম হয়েছি। যেটা আমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, আমাদের বিপদ হয়ে গিয়েছিল যে, ভারতে এত ব্যাপকহারে করোনা দেখা দিলো যে, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা ভ্যাকসিন সাপ্লাই দিতে পারছিল না। তারপরও আমরা পৃথিবীর যেখান থেকে পেরেছি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি এবং এখন আর সমস্যা হবে না। আমরা নিয়মিত পাবো এবং আমাদের দেশের মানুষকে আমরা দিতে পারবো। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা মানুষের কোনো কাজের সুযোগ ছিলো না, ঘরে বন্দি, খাবারের অভাব। সেই সময় আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রত্যেকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। এ সময় তিনি দলের বহু নেতা-কর্মীর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কত মানুষকে যে আমরা হারালাম। এমন কোনো দিন নেই যে, মৃত্যু সংবাদ না আসতো।

সভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় সাড়ে তিনটা পর্যন্ত লম্বা বৈঠক হয়েছে। এতে ফোকাসটা ছিলো সাংগঠনিক এবং পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়। নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিভিন্ন বিভাগকে সেমিনারের মাধ্যমে যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা এগুলোর সেমিনারের মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী যে নির্বাচনি ইশতেহার হবে, সেই ইশতেহারে যে বিষয়গুলো থাকবে সেগুলো আপডেট করার জন্য উপকমিটিগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপকমিটির কয়েকজন সদস্য সচিবের বক্তব্যও শুনেছেন দলের সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, এলাকার ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যন্ত রিপোর্ট আমাদের নেত্রীর সামনে উপস্থাপন করেছেন এবং জানিয়েছেন প্রকৃত অবস্থা। যেখানে যেখানে যে যে সমাধান করা দরকার সেগুলোর বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। কিছু কিছু ছোট কলহ বিবাদ রয়েছে সেগুলোও সমাধান করার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন।

পাবনা পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে ওখানে অনেকে বিদ্রোহ করেছিল। তারা ক্ষমা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন নেত্রীর বরাবর। তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন নেত্রী।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আরেকটা বিষয় নেত্রী বলেছেন অপপ্রচার এবং চক্রান্ত চলছে সরকারের বিরুদ্ধে। যতই নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে ততই অপপ্রচারের মাত্রা বাড়ছে। এসব অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে, চক্রান্তমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

0Shares

Comment here