খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মলাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

লকডাউনেও রাজনগরে কিস্তির চাপ ব্র্যাক এনজিওর

রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগরে লকডাউনের সময়েও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাকের কর্মচারীরা বাড়িতে এসে ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

ব্রাকের ঋণ গ্রহীতাদের বেশির ভাগ দিনমজুর, অটো রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ।

সরকার ঘোষিত লকডাউনে তাঁদের অধিকাংশেরই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভাব অনটনে সংসার চালাচ্ছেন আবার অনেকে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন অবস্থায় কিস্তি যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজনগর সদর ইউনিয়নের তেলিজুরী গ্রামের আলতা মিয়ার বাড়িতে কিস্তি নিতে বসে আছেন এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের এক কর্মী। কিস্তি দিতে এসেছেন তেলিজুরী গ্রামের রাসনা বেগম, জিরা বেগম, রাহেলা বেগমসহ অনেকে।

কিস্তি দিতে আসা লোকদের সাথে কথা বললে, তাঁরা বলেন, লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকায় এখন উপার্জন নেই। কিন্তু ব্রাকের লোকেরা কিস্তি নিতে আসছেন বাড়িতে। কিস্তি দিতে না পারলে কখনো কখনো হুমকিও দিচ্ছেন। তাঁরা আরও বলেন, লকডাউনে সরকারি অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছুর জন্যই সরকারের দিকনির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এনজিওগুলোর কিস্তি আদায়ের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। তাই তাঁদের মতো নিম্ন আয়ের গ্রাহকেরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

কিস্তি আদায় করতে আসা ব্র্যাকের কর্মী পান্নাকে লকডাউনে কিস্তি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন সরকার পরিপত্র জারী করে বলছে লকডাউনে কিস্তি আদায় করা যাবে। এজন্য আমি কিস্তি আদায় করতে আসছি। ব্রাক রাজনগর শাখার ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত বিকাশ দেব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন মাইক্রোফাইনেন্স কর্মসূচীর ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায়ের ব্যাপারে মাইক্রো রেগুলেটরি অথরেটির অনুমতির প্রেক্ষিতে কিস্তি আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা পাল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম কোনো পরিপত্র আমি দেখি নাই, উপজেলা এনজিওর কো-অর্ডিনেটর হিসাবে আমাকে অবগত করার কথা আমার সাথে কোনো এনজিও সংস্থা যোগাযোগ করেনি। আমি অবগত হয়েছি ব্রাক কিস্তি আদায় করছে। আমি

ম্যানেজারের সাথে কথা বলবো কিভাবে করছে বা কেনো করছে।

0Shares

Comment here