খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মলাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

রাজধানীর গলিতে চলে গণপরিবহন, প্রধান সড়কে শেয়ারে চলে রিকশা ও বাইক!

আফজাল আহমেদ : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদের এক দিন পর ২৩ জুলাই (শুক্রবার) ভোর ৬টা থেকে সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহণ সব প্রকার যানবাহন বন্ধ থাকবে। শপিংমল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। শুধু মাত্র জরুরি পণ্য পরিবহণে নিয়োজিত ট্রাক/ লরি/ কাভার্ডভ্যান/ নৌযান/ পণ্যবাহী রেল/ ফেরি- এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। অথচ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজধানীতে চলতে দেখা যাচ্ছে ব্যাটারি চালিত অটো। সেই সাথে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শেয়ারে চলছে রিকশা ও মটর সাইকেল।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চলতে দেখা গেছে ব্যাটারি চালিত অটো, শেযারে রিকশা ও চুক্তি ভিত্তিক মোটর সাইকেল।

রাজধানীর জনবহুল এলাকা খিলগাঁও গোড়ান এলাকায় যাত্রিদের ডেকে ডেকে কোন প্রকার স্বাস্থাবিধি না মেনেই এক অটোতে নেওয়া হচ্ছে ৪ থেকে ৬ জন যাত্রি। এতে করে মানা হচ্ছে না কোন প্রকার সামাজিক এবং শারীরিক দূরত্ব। বাদ যায়নি রিকশাও, রাজধানীর রামপুরা, যাত্রাবাড়িসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শেয়ারে ২ জন নিয়ে চলছে রিকশা।

এদিকে লকডাউন শুরুর পর থেকে প্রথম দিকে রাস্তায় চুক্তি ভিত্তিক মটর সাইকেল চলতে দেখা না গেলেও সম্প্রতি বেড়েছে বাইকের সংখ্যা। এতে করে যে কেউ চুক্তিতে যেতে পাচ্ছে নির্দিষ্ট গন্তব্যে।

রাজধানীর খিলগাঁও সিপাইবাগ বাজার থেকে ভূয়াপাড়া বনশ্রীতে শুক্রবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে চলতে শুরু করেছে ব্যাটারি চালিত অটো। প্রতি গাড়িতে চালকসহ যাতায়াত করছে ৫ থেকে ৭ জন।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অটো চালক জানান, ‘৭ দিন যাবৎ গাড়ি বন্ধ, আমাদের সংসার আছে, কিস্তি আছে। যদি গাড়ি না চালাই তাহলে বউ বাচ্চার মুখে খাবার দিতে পারমু না। সরকার ঘরে খাবার দিয়ে যাক, ১৪ দিন কেন সারা বছর ঘর থেইকা বাইর হমু না।

এ বিষয়ে খলিগাঁও থানার একজন এস আই জানান, বিষয়টা আমরা লক্ষ্য করছি এবং প্রতিদিন রিকশা এবং ব্যাটারি থানায় নিয়ে আসছি। একটু সুযোগ পেলেই তারা রাস্তায় নামছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শেয়ারে চলছে রিকশা!
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, রামপুরা, শনিরআখরা, বাড্ডাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এক রিকশায় চুক্তিতে ২জন করে যাত্রি নেয়া হচ্ছে।

রিকশা চালক কোন কথা বলতে রাজি না হলেও যাত্রিরা জানান, লকডাউনে ব্যায় বেড়েছে কয়েকগুণ সেই সাথে রিকশা ভাড়াও। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই অপরিচিতদের সাথে রিকশা শেয়ার করছি। এতে করে খরচ অনেকটা কমে যায়।

এবিষয়ে রামপুরা ট্রাফিক অফিসে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কোন কর্মকর্তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

চুক্তি ভিত্তিক মটর সাইকেল শেয়ার!
রাজধানীর গুলশানসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রধান সড়কে স্বাস্থ্যবিধি না মেনই চলছে চুক্তি ভিত্তিক মোটর সাইকেল।

গুলশান ১ নাম্বারে যাত্রির অপেক্ষায় বসে থাকা নাজমুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘সরকার লকডাউন দিয়েছে দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য; কিন্তু খাবার না পেলে কিভাবে বাঁচবে? ৬ মাস যাবত গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সবাইকে রেখে আসছি খরচ কমানোর জন্য কিন্তু তাতেও হচ্ছে না। মাস শেষ হলে বাসা ভাড়া দিতে হয়, বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়। বাচ্চাদের বেতন স্কুল গুলো বাধ্যতামূলক ভাবে নিচ্ছে। যদি এভাবেই ঘরে বসে থাকি তাহলে এগুলো কিভাবে চলবে? সরকার স্কুলের বেতন বন্ধ করে দিক, বাসা বাড়াসহ পরিবারের খাবারের দায়িত্ব নিলে আমরা কেন বাসা থেকে বের হব? আমরাতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামি পরিবারের জীবন বাঁচাতে।

রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে দীর্ঘক্ষণ যাত্রির অপেক্ষায় বসে থাকা সাব্বির রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। লকডাউনে অফিস বন্ধ তাই বেতনও হচ্ছে না বলে দাবি করে বলেন, মাস শেষে গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়, ঢাকায় আমার থাকা-খাওয়ার জন্য খরচের টাকা ব্যবস্থা করতে হয়। বাসায় যদি বসে থাকি তাহলে কিভাবে চলবে।

0Shares

Comment here