অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তিরুপসী বাংলালাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

কারওয়ান বাজার মাছের আড়ত সংলগ্ন রেললাইন যেন মৃত্যুফাঁদ

শরিফল ইসলাম | দিগন্তর | মা, ওই যে ট্রেন আইস্যা পড়ছে। আরও চাইপা দাঁড়া।’ শুক্রবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মাছের আড়তের পাশে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আনুমানিক ২৫-২৬ বছরের এক নারী তার শিশুকন্যাকে উদ্দেশ্যে করে এ কথা বলছিলেন। জবাবে ‘আইচ্ছ্যা মা’ বলে শিশুটি মায়ের সঙ্গে রেললাইনের লোহার প্রাচীর ঘেঁষে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। সেই মুহূর্তে তাদের পাশ দিয়ে ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক ওয়াজে দ্রুতবেগে ধেয়ে এলো ট্রেনটি। ট্রেনটি চলে না যাওয়া পর্যন্ত গুটিসুটি হয়ে থাকল মা-মেয়ে। এরপর যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে তেজগাঁওয়ের দিকে হেটে গেলো তারা।

তাদের মতো আরও অনেকেই এ সময় রেললাইনে পাশে জড়ো হয়েছিলেন। সবার আওয়াজ ছাপিয়ে এক মুরগি বিক্রেতার ‘অ্যাই মুরগি’ ডাক শোনা যাচ্ছিল।

কারওয়ানবাজার মাছের আড়তের পেছনে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এমন দৃশ্য নিত্যদিনের। দুর্ঘটনা এড়াতে রেল কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর তুলে লোহার জালের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দিলেও কাজ হয়নি। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এফডিসি সংলগ্ন রেললাইন থেকে তেজগাঁও স্টেশন পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় লোহার তারের বেড়া কেটে যাতায়াতের পথ তৈরি করেছে।

দেখা গেছে, আড়ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিক্রির পাশাপাশি বহুসংখ্যক মানুষ মাছ কাটার কাজ করেন। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন পণ্যের বাজার। বেষ্টনী কেটে ফেলার সুযোগে কেউ কেউ তো রেললাইনের পাশেই পসরা সাজিয়ে বসছেন। অধিকাংশ সময় রেললাইন ফাঁকা থাকায় অনেকেই রেললাইন ধরে যাতায়াত করেন। অথচ ট্রেন এলেই দুর্ঘটনার সমূহ ঝুঁকি দেখা দেয়। অসতর্কতা ও অসাবধানতাবশত হতাহতের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যারা রেললাইনের পাশে চলাচলে অভ্যস্ত নয় তাদের ঝুঁকি বেশি।

রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, একদিন তিনি কারওয়ানবাজার থেকে মাছ কেনার পর কেটে নেয়ার জন্য রেললাইন সংলগ্ন রাস্তায় দাঁড়ান। হঠাৎ করেই তার চোখে পড়ে ধাবমান রেলগাড়ি। লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন ছুটে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড বাতাসে তার মনে হচ্ছিল যেন তিনি উড়ে যাবেন। ঝুঁকি এড়াতে শক্ত করে সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন একটি লোহার খুঁটি আগলে ধরেছিলেন। ট্রেন চলে গেলে সেদিন তিনি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন।

এমইউ/এসএস/এমএস

0Shares

Comment here