অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়প্রযুক্তিরুপসী বাংলালাইফস্টাইলসীমানা পেরিয়ে

গোয়াইনঘাটে মা ও দুইশিশু সন্তান হত্যার রহস্যের জাল ভেদ থানায় মামলা

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি | সিলেটের গোয়াইনঘাটে ট্রিপল মার্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট।

বুধবার (১৬ জুন) রাতে নিহত গৃহবধূ আলেয়া বেগমের পিতা বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাত আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন আইয়ুব আলী।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন)বিকালে গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করার জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ ধারণা করছে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।তিনি বলেন, আয়নায় দেখা যাচ্ছে কিন্তু ধরা যাচ্ছে না, ঘটনাটা অনেকটাই পরিষ্কার। পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এদিকে আহতবস্থায় পুলিশের পাহারায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিফজুরের চিকিৎসাধীন চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।

নিহতরা হলেন- উপজেলার বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিফজুর রহমানের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা আলেয়া বেগম (২৭), ছেলে মিজান আহমদ (১১) ও মেয়ে তানিসা (৫)।

পুলিশ সূত্র জানায়, আগামীকাল শুক্রবার (১৮ জুন) তার শ্যালিকার বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নিয়েও অন্তঃসত্ত্বা আলেয়া বেগমের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই শিশুসহ তাদের মাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের পর বসত ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিলো বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়।

বুধবার (১৬ জুন) সকাল ৮টার দিকে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রাম থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতের কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ বলেন,সিলেটের ডিআইজি মোঃ মফিজ উদ্দিন, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছে গোয়ানঘাট থানা পুলিশ, উনাদের সঠিক নেতৃত্বে আর সুপরামর্শে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের অনেকটাই রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, লোহমোর্ষক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দিন স্যারদ্বয়ের ও এলাকাবাসীর অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। তিনি সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন, সিলেট পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম ও সংলিস্ট বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এলাকাবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

0Shares

Comment here