অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তিরুপসী বাংলালাইফস্টাইলসীমানা পেরিয়েস্বাস্থ্যপাতা

পূর্বের রূপে ফিরেছে জাফলং, নেই পরিবেশ দূষণ

সৈয়দ হেলাল আহমদ | গোয়াইনঘাট | সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত অবস্থিত আছে একটি পর্যটনস্থল যার নাম জাফলং।

সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত। পর্যটনের সাথে জাফলং, পাথরের জন্যও বিখ্যাত। শ্রমজীবি মানুষেরা পাথরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে সেই বহু বছর যাবত৷

জাফলং, মাঝ বরাবর স্রোতহীন স্বচ্ছ পানির পিয়াইন নদী বহমান। সেই নদীর পশ্চিমসহ সম্ভাব্য সব তীরের সীমানায় স্তরে স্তরে বিছিয়ে রাখা হয়েছে পাথরের স্তুপ।উত্তরে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত, দক্ষিণে সংগ্রাম পুঞ্জি, পুবে অবিরাম চলছে পাহাড়-মেঘের লুকোচুরি।এক কথায় জাফলং প্রকৃতির সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি।

সৃষ্টির জগতের সবকিছুই নিজ নিজ পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতায় স্বাভাবিক সৌন্দর্যের অনুপমতা পায়। পরিবেশে সঙ্গে থাকে তার স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দ সম্পর্ক। পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের অনুষঙ্গেই বিকশিত হয় তার স্বাভাবিক বৈচিত্র ও বৈশিষ্ট্য।

পরিবেশ বিচ্ছিন্ন হলে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। মানবজীবনে পরিবেশের প্রভাব যেমন অসামান্য। তেমনি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য সৌন্দর্য মাধুর্যতা রক্ষায় মানুষের মাঝে থাকতে হবে দায়িত্বশীল সচেতনমূলক অগ্রণী ভূমিকা। বিচিত্র পরিবেশ মানবজীবনে ফেলে বৈচিত্র্যময় প্রভাব।

মানব জীবন পদ্ধতি ও সংস্কৃতি গড়ে ওঠে অনন্য পরিবেশের সঙ্গে যোগসুত্র ও সঙ্গতি রেখে, অরণ্য লালিত সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবনেই তারা পরিতৃপ্ত। প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। আলো ঝলমলে নাগরিক পরিবেশে এরা স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে পরিবেশের সঙ্গে হয়ে উঠে বেমানান।

মহান সৃষ্টিকর্তার অপার সৃষ্টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে মানুষের সৌন্দর্য পায় সর্বাধিক অনুপমতা।দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন খ্যাত বিউটি কন্যা পর্যটন স্পট জাফলং ঘনঘন পর্যটকের পদচারণায়, নিয়ম না মেনে পরিবেশ বিনষ্টকারী হোটেল রেস্তোরাঁর এবং ক্রাশার মেশিনের বর্জ্য পদার্থের কবলে জাফলং পর্যটন স্পট হাঁপিয়ে উঠেছিল। যান্ত্রিকতার যাঁতাকলে পাথর ভাংগার ড্রাষ্ট ধুলাবালি বালুকণাসহ জাফলংয়ের আকাশ হয়ে উঠেছিল ভারী। ইঞ্জিন বুট ও ক্রাশার মেশিনের পাথর ভাঙ্গার বিকট শব্দে আশপাশ এলাকায় বসবাসরত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হাঁপিয়ে উঠেছিল। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র পাথর আর বালু উত্তোলনের ফলে জাফলং পর্যটন এলাকা ছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অবুজ প্রকৃতি নিরুপায় হয়ে হারিয়েছিল সবুজের গতি।

করোনা ভাইরাসের কারণে পুরোদেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে, সাধারণ মানুষের কাজকর্ম বন্ধ। এর মধ্যে মানুষ যখন গৃহবন্দি তখন প্রকৃতি উন্মুক্ত হতে শুরু করছে। এ সুযোগে কমছে পরিবেশ দূষণের মাত্রা। নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছে প্রকৃতি, এতে পাল্টে গেছে সিলেটের জাফলং এর প্রকৃতির চেহারা। যেন অচেনা রূপ ধারণ করছে সিলেটের অন্যতম ব্যাস্ততম পর্যটনস্পট জাফলং।
পর্যটনস্পট জাফলং একেবারেই ফাঁকা, থেমে গেছে কোলাহল। যখনই থেমে গেলো কোলাহল তখনই প্রকৃতিকন্য জাফলং তার আগের রূপ ফিরে পাচ্ছে, পরিবেশ হচ্ছে দূষণ মুক্ত। পাহাড় আর নদীর পানি হচ্ছে অনেকটাই স্বচ্ছ। জাফলং জিরো পয়েন্টে মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ছড়িয়ে রয়েছে সাদা সাদা পাথর।

পরিবেশবিদরা মনে করেন, অবৈধ পন্থায় পাথর উত্তলন ও পর্যটনকেন্দ্রের পাথর চুরি হওয়ার ফলে জাফলং এর প্রকৃতিতে দূষণ লেগেছিলো, দীর্ঘ দিন থেকে পাথর কোয়ারি, অবৈধ ভাবে পাথর উত্তলন ও পর্যটকদের আগমন বন্দ থাকায় প্রকৃতি তার নিজের রুপ নিয়ে সেজে রয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ জাফলং সাব-জোনের ওসি রতন শেখ বলেন,জাফলংয়ে যেই সৌন্দর্য্যটা ফিরে এসেছে তার কারণ বর্তমানে আগের মত কোথাও কোন দূষণ ও মানুষের সমাগম নেই। একসময় জাফলং এর প্রকৃতি হুমকির মুখে থাকলেও এখন আর সেই দৃশ্য নেই, তিনি বলেন, আশার কথা হলো অন্তত এ দুর্যোগময় সময়ে প্রকৃতি তার নিজের পরিবেশ ফিরে পেয়েছে, তাই এ পরিবেশকে ধরে বা সংরক্ষণ রাখতে হবে আমাদের সবাইকে।

স্থানীয়রা বলেন, বিশেষ করে জাফলং জিরো পয়েন্টের সাদা পাথরগুলো যাতে চুরি হয়ে না যায় সে বিষয়ে প্রশাসনকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ ও অনুরোধ জানান।

 

0Shares

Comment here