অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তিরুপসী বাংলালাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়েস্বাস্থ্যপাতা

ভাইদের অত্যাচার নির্যাতনে পরিবার নিয়ে বাড়ি ছাড়া প্রবাসী হাবিবুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক | দিগন্তর | হবিগঞ্জের চুনারঘাটে সৎ ভাই ও নিজ আপন ভাইদের অত্যাচারে নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে জীবন বাঁচতে বৌ ছেলে মেয়ে নিয়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে শশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন চুনারুঘাটের সুলতানপুর গ্রামের প্রবাসী হাবিবুর রহমান।

সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দফতরে ধর্না দিয়েও মিলছেনা কোন সহায়তা। নিজ বাড়িতে বসবাস করার জন্য এলাকার জন প্রতিনিধি সহ প্রশাসন এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন  চুনারুঘাট উপজেলার ৫নং শানখলা ইউনিয়নের সুলতান পুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত রমিজ মিয়ার পুত্র মালয়েশিয়া প্রবাসী হাবিবুর রহমান (আজদু মিয়া)।

পাসপোর্ট ভিসা টিকেট ভাইদের হাতে আটক থাকায় প্রবাসেও যেতে পারছেন না হাবিবুর ।

সূত্র জানায় জীবিকার সন্ধানে প্রায় ৮ বছর আগে ধারকর্জ ও ঋন করে মালেশিয়ায় পাড়ি জমান হাবিব। সেখানে গিয়ে আয় রোজগার করে অল্প সময়ের মধ্যে কিছু ধার কর্জ পরিশোধ করলেও সৎ ভাইদের লোভের কারনে এক মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে ৪ বছর ধরে বিপাকে তিনি। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন প্রবাসে হাড় ভাংগা খাটুনি খেটে দেশে এসেছিলাম পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবে বলে কিন্তু আমার ভাইয়েরা স্বার্থের কারনে তা করতে দিচ্ছেনা।

বিষয়টি কয়েক দফায় চুনারুঘাট থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে সমাধান হলেও, আবার যেই-সেই অবস্তা, কোন সমাধানই আমলে নেয়নি হাবিবুর রহমানের সৎ ভাই শাহরাজ মিয়া, মখলিছ মিয়া ও ফিরোজ মিয়ারা। ভাইদের অত্যাচারে হাবিবুর রহমান প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে তার স্ত্রী ও সন্তান নির্মম নির্যাতনেরও স্বীকার হন। পরে দেশে এসে বাধ্য হয়েই স্ত্রী, বিয়ের উপযোক্ত মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হন হাবিবুর রহমান। এতে ছেলে মেয়ের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, রাস্তার জায়গা দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে থানায় ও কোর্টে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে ভিটেমাটি ছাড়া প্রবাসী হাবিবুর রহমান জানান, আমি দীর্ঘ ৫ বছর মালেশিয়া ছিলাম, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমি দেশে আসি, দেশে আসার পরেই আমি আমার সৎ ভাই দের কাছে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এ বিষয়ে আমি এসপি সাহেবের কাছে গিয়েছি তিনি চুনারুঘাট থানার ওসি সাহেবকে  বললে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান হলেও বর্তমানে ১ বছর ধরে আমি বাড়ি ছাড়া।

বিষয়টি সমাধানে জন্য সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দফতরে দৌড়ঝাঁপ করেছি, এলাকা সহ আসে পাশের এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বিদের সরণাপন্ন হয়েছি সবাই সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরবর্তী আর সমাধান করেতে পারেন নি।

তিনি জানান ঘরের সব জিনিসপত্র জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া সহ আমার বিদেশের পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকেট তারা আটকে রেখেছে।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলার ৫ নং শানখলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব ফজলুর রহমান তরফদার ( সবুজ) জানান, এ বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি অনেক চেষ্টা করেছি। সমাধান করে দিয়ে আসার দুই চার দিন পরে আবার যে-ই সেই। তিনি বলেন ভাইদের মধ্যে এ ধরনের বিরোধ আমার জীবনে দেখিনাই। মামলা মোকদ্দমা পরিচালনা করে বিদেশ থেকে যে টাকা ইনকাম করেছে তা উড়িয়ে দিয়েছে।।

0Shares

Comment here