অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়বিনোদনরকমারিলাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়েস্বাস্থ্যপাতা

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস তাণ্ডবে বিধ্বস্ত টেংরাগিরি ইকোপার্ক এবং শুভ সন্ধ্যার ঝাউবন

এসএম আবুল হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গপ সাগরের তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জলরাশি “শুভ সন্ধা সমুদ্র সৈকত”। বাতাসের ঝিরিঝিরি শব্দে দোল খায় সবুজ ঝাউবন। বালুময় দীর্ঘ সৈকত ঝাউবনের সবুজ সমীকরণের এ দৃশ্যটি যেন প্রকৃতি প্রেমর একটি উদাহরণ। যার কারনে প্রতিবছর এখানে উপমহাদেশের সব থেকে বড় জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন এই শুভসন্ধ্যার সৌন্দর্য দেখার জন্য।

উপকূলীয় বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া চরে অবস্থিত এই “শুভ সন্ধা সমুদ্র সৈকত”। যার সৌন্দর্য দেখতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে সৌন্দর্য্য হারিয়ে ভূ-গর্ভে বিলীন হয়েছে তালতলীর এই ঝাউবন।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল টেংরাগিড়ি এই বেলাভূমির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে শুভ সন্ধার ঝাউবন। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে লন্ডভন্ড হয়ে, প্রায় প্রস্থ্য ৫০ ফুট ও দৈর্ঘ্য,প্রায় সারে ৩ কিলো মিটার ঝাউবন বিধস্ত হয়ে আছে। যে ঝাউবনটি ছিলো শুভসন্ধ্যার প্রধান সৌন্দর্য।

সারা বছরই সমুদ্র সৈকত দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসতেন। চলমান করোনাভাইরাস এর কারণে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র গুলো। পর্যটকদের যেমন সমুদ্র প্রিয় তেমনই প্রিয় ছিলো শুভসন্ধ্যার এ ঝাউবন। সেই উপকূলের সৌন্দর্য্য লুকিয়ে থাকতো যেই ঝাউবনটির ভিতরে, সেই ঝাউবন আর আস্তা নেই ইয়াসের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঝাউ গাছ লাগানো শুরু থেকে যে কয়টি ঘূর্ণিঝড় আসছে তাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার ঝাউ গাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর গত বছর আম্পানের কারনে প্রায় ৩ হাজার ঝাউবন বিলিন হয়ে গেছে। আম্পানের পর ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে টেংরাগিরি বন ও শুভ সন্ধা ঝাউবনে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এখানে উপমহাদেশের সব চেয়ে বড় জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসব ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। তা ছাড়া প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসতো। সমুদ্রের মূল আকর্ষণ ছিল ঝাউবন। বিভিন্ন দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঝাউবন বিলীনের পথে।

সিডর, আইলা, নারগিস, আম্পান সহ বড় বড় দুর্যোগ কে মোকাবেলা করেছে এই বন। বনের কারনে রক্ষা পেয়েছে উপকূল বাসি। উপকুলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদের রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করেছে।ম্যান-গ্রোভ বন উপকূলকে সব সময় রক্ষা করে আসছে। আর সেই রক্ষা কবজই ইয়াসের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এই বন না থাকলে উপকূলকে বাচাঁনো সম্ভব হতো না।

তালতলী রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টেংরাগিরি ও শুভ সন্ধ্যা বনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের তীরবর্তী প্রায় দেড় কিলোমিটার পাড় ভেঙে গেছে ও নদীর পানির সাথে ভেসে গেছে অনুমানিক ৬ হাজারের বেশি গাছ।

0Shares

Comment here