অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তিরুপসী বাংলালাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়েস্বাস্থ্যপাতা

সারা দেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসবো : প্রধানমন্ত্রী

এসকে জামান | দিগন্তর | প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতিকে নীতি বানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সরকার বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শে দেশের রেল খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। তবে বাইরের কারো পরামর্শে নয়, দেশের মানুষের প্রয়োজন বুঝেই সারা দেশে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে বর্তমান সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি মাগুরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রান্তে যুক্ত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে রেল যোগাযোগে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এমনকি যেসব এলাকায় রেললাইন নেই সেসব এলাকায়ও রেল সহযোগিতা দিয়ে দিচ্ছি। যেন পণ্য পরিবহন ও ব্যবসাবাণিজ্য সমৃদ্ধ করা যায়। যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষ যেন সহজে চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিকে তাকায়নি। অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করে, ক্ষমতাকে তারা ভোগের বস্তুতে পরিণত করেছিল। নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা করা, দুর্নীতিটাকে তারা নীতি হিসেবে নিয়েছিল। আর বাংলাদেশের সব মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলা এবং আমরা যে বিজয়ী জাতি, বিজয়ী জাতি হিসেবে যে মর্যাদা সেই মর্যাদাটুকু ভূলুণ্ঠিত করেছিল এবং পরাজিত শত্রুরই পদলেহন করত।

রেলের জন্য যেন আলাদা বাজেট থাকে এবং যেন উন্নতি হয় সেজন্য সরকার রেলপথ মন্ত্রণালয় করে দিয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে, বিশেষ করে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পরামর্শক্রমে রেলের সম্পূর্ণ যোগাযোগগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কাজ নিয়েছিল। যার জন্য অনেকগুলো যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, অনেকগুলো লাইন বন্ধ হয়ে যায়, অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। পুরো রেল যোগাযোগটা তারা ধ্বংস করে। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে রেলের অনেক লোককে বিদায় দিয়ে দেয়।

আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর রেলের উন্নয়নে কাজ শুরু করে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারে এসে বঙ্গবন্ধু সেতু, যমুনা নদীর উপর, তার সঙ্গে রেল সংযোগ করি। আর সেই সাথে সাথে রেলকে পুনঃস্থাপন করার কাজ আমরা হাতে নিই।

তিনি বলেন, জাতির পিতা যেভাবে সারাদেশে একটা যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ হয়, অল্প খরচে চলাচল করতে পারে, পণ্য পরিবহন করতে পারে…একদিকে ব্যবসা বাণিজ্য যেমন চলে অন্যদিকে মানুষের যাতায়াতও সহজ হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে রেলকে আমরা গুরুত্ব দেই। কারণ অন্যের পরামর্শ নিয়ে আমরা চলি না। বাংলাদেশ কিভাবে চলবে, উন্নত হবে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য কিভাবে পরিবর্তন হবে, বাংলাদেশের কিভাবে উন্নতি হবে আমরা সেটাকেই গুরুত্ব বেশি দেই। আর সেভাবে গুরুত্ব দিয়েই আমরা সমগ্র বাংলাদেশে আজকে রেল যোগাযোগের ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, যেসব এলাকায় রেল নেই সেখানেও আমরা রেল সংযোগ দিয়ে দিচ্ছি, যেন পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য সমৃদ্ধ করা এবং যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষ যেন সহজে চলাফেরা করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করে যাচ্ছি। আমরা বঙ্গবন্ধু সেতুর সঙ্গে একটা রেল যোগাযোগ করেছিলাম বলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। আজকে সেই রেল সেতুর সাফল্য দেখে আমরা আবার ..যারা এক সময় আমাদের দেশে রেল বন্ধই করে দিতে চেয়েছিল তারাই আবার আমাদেরকে উদ্যোগী করেছে যে সেখানে আরেকটা রেল সেতু করার জন্য। অর্থাৎ যমুনা নদীর উপর নতুন আরেকটা রেল সেতু, সেটারও আমরা ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমের মৌসুম। ভালো সুমিষ্ট আম যাতে সারা বাংলাদেশের মানুষ খেতে পারে, ব্যবসা বাণিজ্য যাতে সম্প্রসারিত হয় এবং ওই অঞ্চলের মানুষ যেন আরও লাভবান হয়। ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্রিজও করে দিয়েছি, যার জন্য সমস্ত এলাকায় একটা যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে গেছে। সেখানে একটা বিশেষ রেল সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। যার নামই দেওয়া হচ্ছে ম্যাংগো স্পেশাল। ম্যাংগো স্পেশাল শুনলে এমনিতেই সবার জিহ্বায় পানি এসে যাবে। ভালো আম সবাই খেতে পারবে।

ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটি জাপান থেকে আনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটির উদ্বোধন ঘোষণা শেষে হাস্যরসে বলেন, সবাই এখন মজা করে আম খান, ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন। রেলটা চালু করেন।।

0Shares

Comment here