অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তিরুপসী বাংলালাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়েস্বাস্থ্যপাতা

ফেসবুকে সিআইডি কর্মকর্তা, বাস্তবে রেস্তোরাঁকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক | দিগন্তর | ফেসবুকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার ফরেনসিক এক্সপার্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে তরুণীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন জাকারিয়া চৌধুরী নামে এক যুবক। বাস্তবে তিনি কাজ করতেন রাজধানী বনানীর একটি রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনকর্মী হিসেবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে জাকারিয়াকে গ্রেফতার করে সিআইডির মনিটরিং টিম।

 

সিআইডির সাইবার ক্রাইম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, সাইবার ক্রাইমের মনিটরিং সদস্যরা দীর্ঘদিন জাকারিয়াকে পর্যবেক্ষণ করার পর প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করে। জাকারিয়া ফেসবুকে নিজেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন রেস্তোরাঁর কর্মী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এইচএসসি ফেল বলে জানান। তবে সেটি নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। চুলের কাট, ড্রেসআপে সুদর্শন ও স্মার্ট সেজে থাকেন এই যুবক। ফেসবুকে দেয়া তথ্যানুযায়ী চিটাগংয়ের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রি নেয়া জাকারিয়া ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছেন। কাজ করছেন সিআইডির সাইবার ফরেনসিক এক্সপার্ট হিসেবে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ফেসবুকে নিজেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিলেও বাস্তবে এড়িয়ে চলতেন পুলিশদের। ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন আসল পুলিশ সদস্যদের স্বজনদের সঙ্গে। ফেসবুকে তাদের নানা পোস্টে তার সরব উপস্থিতিও দেখা গেছে। ফেসবুকে তার বন্ধুর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। এএসপি পরিচয়ে ঈদের দিন রাজধানীর হাতিরঝিলে অনার্স পড়ুয়া এক তরুণীর সঙ্গে দেখাও করেছেন তিনি।

গ্রেফতার জাকারিয়ার ফেসবুকে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে পুলিশ পরিচয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রমাণ মিলেছে বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

 

সাইবার এক্সপার্ট পরিচয় দেয়া জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি একদিনের রিমান্ডে। তার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে বলে জানান সিআইডির সাইবার ক্রাইম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ।

0Shares

Comment here