জাতীয়রুপসী বাংলাশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

সরকার প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়ার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে, ফকরুল ইসলাম

 

দিগন্তর ডেস্ক :বিএনপির মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে ধারায় খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেই ধারাতেই তার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার মৃতুদ-ের আসামিদের মুক্তি দিয়ে দিচ্ছে, দ-প্রাপ্ত আসামিদের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়ার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে।

রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার উত্তর গেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এর আগে, তিনি বসুন্ধরায় এভার কেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। সেখানে মাত্র দুই মিনিট তিনি খালেদা জিয়াকে দেখেছেন বলে জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমরা নিঃসন্দেহে হতাশ। তার (খালেদা জিয়া) এই চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। ওয়ান-ইলেভেনের ধারাবাহিকতায় সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়, এই জন্যই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি চরিতার্থ করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইনের মধ্যেই যথেষ্ট পরিমাণ দ- মওকুফের সুযোগ রয়েছে। খালেদা জিয়ার জন্য তাদের মানবতা কাজ করেনি, শিষ্টাচার কাজ করেনি। রাজনীতির শিকার হয়েছেন তিনি। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমার কাছে বেটার (ভালো) মনে হলো। অক্সিজেন ছাড়াই শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন তিনি; সাইন অব ইমপ্রুভমেন্ট (উন্নতির লক্ষণ)।

খালেদার জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করা হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো আবেদন করিনি। এটা তার পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে। মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামিকে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগে দিয়েছে সরকার। অথচ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো মানবিকতা, সৌজন্যতা, শিষ্টাচার কাজ করেনি। এই ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার মূল স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো বাড়ছে। হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার কোভিড সংক্রান্ত সমস্যার উন্নতি হলেও তার পুরনো স্বাস্থ্য জটিলতাগুলো বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের কোভিড পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ এসেছে। এই সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু তার মূল সমস্যাগুলো বাড়ছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, তিনি অনেকগুলো অসুখে ভুগছেন দীর্ঘকাল থেকে, দীর্ঘকাল কারাভোগ করা এবং কোনো চিকিৎসা না হওয়ার কারণে সেগুলো বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বয়সে তার সেগুলো বেশ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ডের ‘আন্তরিকতার’ কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আশার কথা হচ্ছে যে, সি ইজ শোয়িং সাইন অব প্রোগ্রেস। তবে তা যা শারীরিক অবস্থা তাতে তাকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) রেখেই চিকিৎসা দিতে হবে বলে তিনি জানান।

গত ২৭ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। গত ৩ মে হঠাত তিনি শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। প্রতিদিন তাকে কয়েক লিটার অক্সিজেন নিতে হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৬ মে তার ছোট শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। তবে ওই আবেদনে মঞ্জুর করার আইনগত কোনো সুযোগ নেই বলে এর মধ্যে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার নিয়ে সরকারের কিছু মন্ত্রীর ‘আপত্তিকর ও বিদ্রুপাত্মক’ বক্তব্যের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।

0Shares

Comment here