জাতীয়রকমারিরাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

ফেরীতে ঘরমুখো মানুষের ঢল, সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

দিগন্তর প্রতিবেদক : করোনায় লকডাউন উপেক্ষা করে আসন্ন ঈদে রাজপথ ও ফেরিঘাটে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমার ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জেলার মানুষ যানবাহন পালটে ভেঙে ভেঙে, অনেকে হেঁটেই যাত্রা করেছেন। আগাম ঘোষণা ছাড়াই শনিবার সকাল থেকে হঠাৎ ফেরি বন্ধ করে দেওয়ায় ঘাটগুলোয় ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকে অভিযোগ করেন, ফেরি চলবে না, আগে জানলে আসতাম না। দিনের একপর্যায়ে যাত্রীদের চাপে ফেরি ছাড়লেও তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। প্রায় কারো মুখে মাস্ক ছিল না। ফেরিতে ‘তিল ধারণের’ ঠাঁই ছিল না। যাত্রীদের চাপাচাপি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এই ভিড় থেকেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঈদের দুই সপ্তাহ পর এর প্রকাশ ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এভাবে দেশের সর্বত্র মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ শঙ্কা বাড়ছে বলে তারা মনে করেন। আসন্ন ঈদের আগে জেলার ভেতর গণপরিবহণ চলাচল শিথিল না করে ঈদের পরে করলে এ ঝুঁকি এড়ানো যেত। তারা বলেন, ফেরিঘাটগুলোয় যা হলো, এটা এড়ানো যেত। হঠাৎ ফেরি বন্ধ না করে চলাচল অব্যাহত রাখলে যাত্রীর চাপ বাড়ত না। অথবা দূরপাল্লার বাস চালু থাকলে যাত্রীরা ঢাকা থেকে সোজা গন্তব্যে পৌঁছাত। ভাইরাসটি রাস্তায় রাস্তায় ছড়ানোর ভয় থাকত না। ভেঙে ভেঙে যাওয়ায় করোনা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যারা ঢাকা ছাড়ছেন, তাদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নইলে করোনা সংক্রমণ বর্তমানের অবস্থার চেয়ে বেড়ে যেতে পারে।

সরেজমিন মাওয়া ও আরিচা ঘাটে দেখা গেছে, হাজার হাজার যাত্রী রোজা রেখে রোদের মধ্যে ফেরির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। ফেরি কখন চলবে বা আদৌ চলবে কিনা, কেউ জানেন না। এরপরও ঘাট ছাড়ছেন না কেউ। এ সময় হঠৎ ফেরি বন্ধ করায় অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তারা বলছেন, এত এত টাকা দিয়ে কষ্ট করে ঘাটে এসে দেখি ফেরি বন্ধ। আগে ঘোষণা দিলে আমরা আসতাম না। এত কষ্ট করতে হতো না। ঢাকায় বসবাস করা ফরিদপুর, বরিশাল, যশোর, খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বাড়ি ফেরার জন্য শনিবার সকাল থেকেই মাওয়া ও আরিচা ঘাটে জমা হতে থাকেন। তারা এসে দেখেন ফেরি বন্ধ। ফলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। খোলা আকাশের নিচে রোদের মধ্যে বেশি দুর্ভোগে পড়েন বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশু। দুপুরের পর ফেরি চালুর সিদ্ধান্ত এলে মানুষ ঘাটের পল্টুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। অনেকেই ঘাটে বাঁধা দড়ি ধরে ঝুলে ঝুলে ফেরির পল্টুনে উঠেন। হাঁটুর চেয়ে বেশি পানি ভেঙে অনেক মহিলাকেও রেলিং বেয়ে ফেরিতে উঠতে দেখা গেছে।

দূরপাল্লার গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও তারা ঈদ করতে যানবাহন পালটে, পথে পথে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গ্রামে ফিরছেন। কেউ ভাড়ায় ছোট গাড়ি (সিডান কার), মাইক্রোবাস, ছোট ছোট ট্রাক, মোটরসাইকেল নিয়ে রওয়ানা হয়েছেন। কুমিল্লা যেতে সাধারণ সময়ের ২০০ টাকার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৬০০ টাকা। ফেনী যেতে ৩০০ টাকার ভাড়া দিতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর নোয়াখালী যেতে ৭০০ টাকার ভাড়া শনিবার ২ হাজার টাকা দিয়েও গেছেন অনেকে। এরপরও তাদের বাড়ি ফেরাতেই স্বস্তি।

সায়েদাবাদে কথা হয় কুমিল্লাগামী যাত্রী সাইদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাসা মিরপুর। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে কুমিল্লা যাব। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ভাড়া করা গাড়িতে বাড়ি যাচ্ছি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া নিয়েছে। নিরুপায় হয়ে গাড়িটি ভাড়া নিয়েছি। যাত্রাবাড়ীতে কথা হয় প্রাইভেট কারের চালক নূরে আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, সরকার গণপরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীর চাপ আছে। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করতে হয়। পুলিশ জানলে মামলা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাবে। সেজন্য আমরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি। তাছাড়া রাস্তায় পুলিশ ধরলে টাকা-পয়সা দিতে হয়।

সরেজমিন আরও দেখা যায়, রাজধানীর গাবতলী ও আমিনবাজার এলাকা দিয়ে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে চেপেই যাত্রীরা যাচ্ছেন আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটের দিকে। প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। প্রশাসনের তৎপরতায় যাত্রীদের গাবতলী থেকে হেঁটে আমিনবাজার গিয়ে ঘাটের গাড়ি ধরতে হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ইমদাদুল হক যাচ্ছেন গ্রামের বাড়ি মাগুরায়। তিনি বলেন, বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। অফিস অনেককে ছুটি দিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে আমিও আছি। ছুটি যেহেতু পেয়েছি, সেহেতু বাড়ি যাচ্ছি ঈদ করতে। তবে অতিরিক্ত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করে আবার ঢাকায় ফিরব।

এদিকে শনিবার রাজধানীতেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। গণপরিবহণ চলাচল করেছে যথারীতি। সিগন্যালগুলোয় ১০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়েছেন অনেকেই। মানুষের চলাচল বেশি- এমন এলাকার সড়কগুলোয় গাড়ির জট ছিল। আর কেনাকাটা করতে আসা মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে খুবই কম। কেউ মাস্ক পরেছেন, কেউ পরেননি। অনেক দোকানে সামাজিক দূরত্বও রক্ষা করা হয়নি।

মোহাম্মদপুর টাউন হল নতুন কাঁচাবাজার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার দোকানদার ইমরান হোসেন মাস্ক ছাড়াই ব্যবসা করছেন। তার সঙ্গে আরও দুজন বসে আড্ডা দিচ্ছেন। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা শুরুর পর থেকে কোনোদিন মাস্ক পরিনি। কই আমার তো করোনা হয়নি। এটা আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি চাইলে হবে, নইলে হবে না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ দিগন্তরকে বলেন, সরকার চায়, জনগণকে বাড়ি যেতে নিরুৎসাহিত করতে। এজন্য বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। এরপরও যারা ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন, তাদের উচিত হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা। আর যারা যেতে চান, তাদের তো আটকে রাখা যাবে না। তবে সরকার চাইলে এখন সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ঈদের আগে গণপরিবহণ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভুল হয়েছে। সরকার চাইলে ঈদের পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারত। তাহলে ঈদের সময়ের এ ঝুঁকিটা এড়ানো যেত। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এসব কারণে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত যাথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতিও হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈদে ঘরমুখো হাজারও মানুষ গ্রামে যাচ্ছে। যাত্রাপথে তারা সংক্রমণ ছড়াতে ছড়াতে যাবে। করোনায় আক্রান্ত মানুষ গ্রামেও সংক্রমণ ছড়াবে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে এটার বিশ্লেষণে বিষয়টি আমরা আরও পরিষ্কার হতে পারব।

সামগ্রিক বিষয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘লকডাউন’ দিয়ে দোকান খুলে দিলে তো আর কার্যকর সুবিধা মিলবে না। যে কদিন লকডাউন দিয়েছে, সবকিছু মেনে চলতে পারলে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যেত। তিনি বলেন, লকডাউন মূলত অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের মতো, শেষ করতে হয়, নইলে ক্ষতির মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে আরও জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য আমার মনে হয়, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে স্বল্পপরিসরে দূরপাল্লার গণপরিহণ চালু করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। তাহলে একদিকে মানুষের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করলে করোনা সংক্রমণও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। নইলে মানুষ যেভাবে গ্রামে ছুটছে, তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

মানিকগঞ্জ : ঘাটে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ফেরি কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে শনিবার দুপুরের পর থেকে ফেরি চলাচল শুরু করেছে। ফেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বাস্তবতা বিবেচনা দুপুরে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান লকডাউনের শুরু থেকে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছিল। এরপর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সকাল ৬টা থেকে পুরোপুরি ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে ঈদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারও যাত্রী সকাল থেকে ঘাট এলাকায় ভিড় করেন। এছাড়া প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, হাইয়েসসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত গাড়িরও চাপ পড়ে পাটুরিয়ায়। পরে যাত্রীদের ভোগান্তি বিবেচনা করে এবং তাদের রোষানলে বাধ্য হয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

মুন্সীগঞ্জ : শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ঢল নেমেছে। শনিবার ভোর থেকে বিভিন্ন যানবাহনে ঘাট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন হাজারও মানুষ। অত্যাধিক যাত্রীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষকে। এ অবস্থায় ফেরি না ছাড়ার নির্দেশনা থাকলেও যাত্রীদের চাপে পড়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে তিনটি রো রো ফেরি ছাড়তে বাধ্য হয়। এবং একটি ফেরি অ্যাম্বুলেন্স পার করার জন্য প্রস্তুত করলে মানুষের চাপে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে উঠতে না পারায় ফেরিটি অন্যত্র সরিয়ে নেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে পুলিশ ঘাট এলাকায় কোনো যানবাহন ঢুকতে দিচ্ছে না। দিলেও কয়েক কিলোমিটার হেঁটে ঘাটে আসছেন যাত্রীরা। ফেরি বন্ধ থাকার খবর শুনে নিরুপায় হয়ে ঘাটে অপেক্ষা করছেন তারা। যদি কোনো ফেরি ছাড়ে সে অপেক্ষায়। অনেকে আবার ফিরে যান রাজধানীর দিকে।

রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল থাকা সত্ত্বেও রাতে ঢাকাফেরত যাত্রীরা ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিয়েছেন। এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জনতার চাপে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুল হক খান মামুন দুপুর ১টায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বিআইডব্লিউটিসির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- লাশ পারাপার, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স পারাপারসহ অতি জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য দুটি ফেরি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দুটি ফেরি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আরও বেশি সংখ্যক ফেরি চলাচল করছে বলে স্থানীয়রা জানান। সরেজমিন জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথম পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে মাধবীলতা নামের একটি ছোট ফেরি কয়েকটি প্রাইভেট কার ও কয়েকশ যাত্রী নিয়ে বেলা ১১টায় দৌলতদিয়া ঘাটে ছেড়ে আসে। এরপর দুপুর ১২টায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায় রজনীগন্ধা, সাড়ে ১২টায় বনলতা, পৌনে ১টায় শাপলা শালুক ফেরি। প্রতিটি ফেরিতে যাত্রী ও ছোট যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দুপুর ১টার দিকে পাটুরিয়া থেকে খানজাহান আলী নামের আরেকটি ফেরি দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ভেড়ে।

শিবচর (মাদারীপুর) : মাদারীপুরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে শনিবার ভোর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করেই ফেরি বন্ধের ঘোষণায় হাজারো যাত্রী শনিবার ভোরে এসে ভিড় জমায় শিমুলিয়া ঘাটের পদ্মার পাড়ে। জরুরি পরিবহণ নিয়ে চলাচলকারী ফেরি ঘাটে ভিড়লেই অপেক্ষমাণ যাত্রীরা লাফিয়ে ফেরিতে ওঠা শুরু করেন। তবে লাশ, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবামূলক ও পণ্যবাহী পরিবহণ পারাপারে ফেরি চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীর চাপের কারণে সীমিত আকারে ফেরি চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

ফেরি ঘাটে ভিড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে ফেরিতে ওঠার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। যে কারণে কোনোভাবে লাশ ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে তোলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান ঘাট কর্তৃপক্ষ। ঘাটে দায়িত্ব পালন করা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হাসান বলেন, ঘাটে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি সেবামূলক পরিবহণ পরীক্ষা করে আমরা ফেরিতে উঠানোর ব্যবস্থা করছি। তবে ঘাটে যাত্রী চাপ বেশি, যে কারণে ফেরিতে সাধারণ যাত্রীরা উঠে যাচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ম্যানেজার (মেরিন) আহম্মদ আলী জানান, লকডাউনের জন্য এ রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে লাশ, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবামূলক ও পণ্যবাহী পরিবহণ পারাপারে ফেরি চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। রাতে পণ্যবাহী পরিবহণ পারাপারে ফেরি চলাচল করবে।

0Shares

Comment here