জাতীয়লাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

আক্কেলপুরে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

 

চৈতন্য চ্যাটার্জী আক্কেলপুর প্রতিনিধি || টানা ৮ মাস অনাবৃষ্টি, কালবৈশাখীর ঝাপটা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বোরো আবাদ চাষির অনুকূল ছিল না। তবুও বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরো ধানের সোনালি শীষ স্বপ্ন দেখাচ্ছে কৃষক পরিবারকে। তাপদাহের মধ্যে পাকা ধান দুলছে বাতাসে। এ অবস্থায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের চাষিরা তাই রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ধান কাটা উৎসব শুরু করছেন।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরগুলোতে বোরো মৌসুমে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবার বীজতলা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। পুরো মৌসুমই সেচের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়েছে। তারপরও ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এবার উপজেলায় ধানের আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৩০০হেক্টর জমিতে। আর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।

উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী গ্রামের ধানচাষি মোঃ সারাফত হোসেন জানান, এবার ৩বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। গত বোরো মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ছিলাম। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানও খুব ভালই হয়েছে। বিঘা প্রতি প্রায় ২৪-২৫ মন পর্যন্ত ধান হচ্ছে। প্রতিটি শীষ ক্ষেতে সোনার মত জ্বলছে। বাজারে ভাল দাম পেলে লাভবান হতে পারবো।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আক্কেলপুর পৌরসভার বাসিন্দা হামার ভায়রার একছটাক জমি নেই, তবুও সে ২০কেজি করে সার পেয়েছে, আর হামি ৩ বিঘা জমির মালিক হয়েও এক দানা সারও পাইনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এই মুকিমপুর মৌজার ধুনঙ্গা মাঠে কৃষি অফিস থেকে যদি পরামর্শ পেতাম তাহলে আরো ভালো হতো কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন কর্মকর্তা আমাদের এই মাঠে বছরে একবারও আসেনি। আমার কৃষি কার্ড থেকেও সরকারি কোন প্রণোদনা পায়নি।

একই এলাকার বর্গাচাষি মোঃ সেকেন্দার আলী জানান, প্রতিবেশীর নিকট দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে জিরাশাইল ধানের চাষ করছি। এই ধুনঙ্গা (মাঠে) আমার জমির মতো কারো ধান হয়নি বিঘায় ২৫ মন ধানের আশা করছি। প্রতিদিন আসি আর ধান কাটার স্বপ্ন দেখি। সেটা আজ পুরণ হচ্ছে। ধানের বাজার ভাল পেলে বাকি দিনগুলি মোটামুটি ভালই যাবে।

উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভিকনী গ্রামের ধান চাষি উজ্জল হোসেন জানান, এবার ৬ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। ভাল ফলনে এবার স্বপ্ন দেখছি ভাল দামের। আর এখন থেকে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠছে কৃষকের বাড়ির উঠান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ফসলের জাত ভিত্তিক অগ্রগতির চুডান্ত প্রতিবেদনে উপজেলায় ধানের আবাদ উফশী- জিরাশাইল, কটারিভোগ, ব্রিধান-২৮, ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৫৮, ব্রিধান-৬৩, ব্রিধান-৮১, ব্রিধান-৮৪, ব্রিধান-৮৬, ব্রিধান-৮৮, ব্রিধান-৮৯, ব্রিধান-৯২, কাজল তলা, বিআর-১০, এবং হাইব্রিড- এসএলএইচ-৮, হিরা-২, দূর্বার, তেজ, শক্তি, জাগড়ন, এসিআই, সর্বমোট হয়েছে ১০ হাজার ৩০০হেক্টর জমিতে। আর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।

কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আবহাওয়া অনুকূল, কৃষি বিভাগের তৎপরতা, অধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, সার-বীজের পর্যাপ্ত সরবরাহ, কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা দেওয়ার ফলে আক্কেলপুর উপজেলায় এবার ইরি-বোরো চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অতি তীব্র তাপদাহের কারণে কিছু কিছু এলাকায় কিছু জমিতে ধানে চিটা হয়েছিল, তাপদাহ কমার ফলে জমি গুলোতে স্বাভাবিক ধানের ফলন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কৃষকদের থেকে সরকারি রেটে ধান ক্রয় করা হবে।

……………….
চৈতন্য চ্যটার্জী
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

0Shares

Comment here