জাতীয়বিনোদনরকমারিলাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গন

খালেদা জিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মহাভাবনায় বিএনপি, চলছে প্রার্থনা

স্টাফ রিপোর্টার || বিপজ্জনক সময়ে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময় বন্দি থাকায় কমে গেছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। দেশের বাইরে যেতে না পারায় হয়নি জটিল রোগের চিকিৎসাগুলোও। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত করোনায় বেড়ে গেছে শ্বাসকষ্ট। নেয়া হয়েছে সিসিউতে। নিচ্ছেন কৃত্রিম অক্সিজেন। চিন্তিত খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা। নেই কোনো উন্নতি। দিনদিন অবনতির খবরই পাশে পাচ্ছেন তারা। খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর যখন স্বাভাবিক ছিলেন তখনো তার ফুসফুসে ৭ শতাংশ সংক্রমণ ছিলো। কিন্তু অবনতির পর শ্বাসকষ্ট বাড়লে সিসিইউতে স্থানান্তরের পর তার চিকিৎসকরা এ নিয়ে আর কেউ কথা বলছেন না। সবাই অবনতির ইঙ্গিত দিয়ে অস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে এডিয়ে যাচ্ছেন। ভালো খবর দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

এ পরিস্থিতে আলোচনা উঠেছে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া। বিএনপি মহাসচিব ও খালেদা জিয়ার ছোট ভাই দেখা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। এ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে পরিবার ও দলের একটি অংশ ঝুঁকি মুহূর্তে হলেও খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে আরেক অংশ বলছেন বিএনপি নয় বরং সরকারই এখন দল ও পরিবারকে ডাকছেন। খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে। কারণ খালেদা জিয়ার অঘটন সরকারের দায়ের মধ্যে হোক এটি সরকার চাচ্ছেন না। এর আগে ঝুঁকি সময়ে সরকারের ইচ্ছেতেই খালেদা জিয়া মুক্তি পান এখন ফের বিপজ্জনক সময়েও যদি মুক্তি পায় তাও হবে সরকারের ইচ্ছায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছেন, প্রায় আড়াই বছর আইনি লড়াইয়ে কিংবা রাজপথে ভূমিকা পালন করে সরকারকে চাপ প্রয়োগে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপি। দেশে করোনা বেড়ে গেলে গত বছর ২৪ মার্চ হঠাৎ সংবাদ সম্মেলন ডেকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান- খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে ৬ মাসের জন্য সাময়িক মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পূর্ব বার্তা ছাড়াই হঠাৎ সরকারের এমন ঘোষণার পর সেই সময়ে তাৎক্ষণিক বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, এখন পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। উনাকে কোন প্রক্রিয়ায় কীভাবে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। আমরা বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার ১৭তম দিনে সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার ‘সাময়িক’ মুক্তির পেছনে সব চেয়ে বড় কারণটি ছিলো তাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা। এ বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতারাও তখন অনেকে বলেছেন। কারণ সরকার কোনোভাবেই চায়নি বন্দি অবস্থায় হাসপাতালে তার দুর্ঘটনা ঘটুক। কারণ খালেদা জিয়ার আটক ও সাজার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাজনৈতিক কারণেই দেখেছেন। বন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়ার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে এটির দায় ও চাপ সরকারকেই বহন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার খালেদা জিয়াকে পছন্দের যায়গায় স্থানান্তর করেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। মুক্তির ১ বছর ১৫ দিনের মাথায় গত ১০ এপ্রিল বেগম খালেদা জিয়ার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তার বাসার অন্যরাও কোভিড-১৯ পজেটিভ। এরপর তার চিকিৎসকের নির্দেশনায় তাকে রাখা হয় ?রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে দ্বিতীয় টেস্টেও আসে তার পজেটিভ। চিন্তা বাড়ে সবার। সেখানে গত সোমবার বিকালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে নেয়া হয় সিসিইউতে। তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আপাতত তিনি ভালো আছেন।

জানা যায়, বর্তমানে শুধু তার করোনা সমস্যাই নয়। গত সাড়ে ৩ বছরের বেশি সময় ধরে কারো সাহায্য ছাড়াই হাঁটতে পারেন না বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটির নেতারা বলছেন, দুর্নীতির মামলায় সাজা হলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পায়ে হেঁটে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে যান খালেদা জিয়া। এরপর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেলে তাকে হুইল চেয়ারে করে হাসপাতাল থেকে নিচে নামিয়ে গাড়িতে তোলা হয়। তখন তার এক হাত হলুদ কাপড়ে ঢাকা ছিলো। কার্যত চিকিৎসার অভাবে তার এক হাতের কিছু অংশ বেঁকে যায় বলে চিকিৎসক সূত্র জানান। এখনও তার একই অবস্থা। হুইল চেয়ারে করে কারো সাহায্য নিয়ে তাকে চলাফেরা করতে হয়। সম্প্রতি বাসা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়ার সময়ও একই দৃশ্য দেখা যায়। চলাফেরার জন্য অন্যর সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে। বিএনপি নেতারা ও খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা বলেছেন, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ১৭ জুন গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানায় বিএনপি। কিন্তু সরকার ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর হুইল চেয়ারে করে কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে দীর্ঘসময় তাকে চিকিৎসা দেয়া হলেও স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হয়নি।

0Shares

Comment here