জাতীয়লাইফস্টাইলস্বাস্থ্যপাতা

গণপরিবহন চালুর দাবীতে রোববার বিক্ষোভ করবে পরিবহন শ্রমিকরা

দিগন্তর ডেস্ক || স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চালুর দাবিতে আগামী রোববার সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এমন ঘোষণা দেয় সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠনটি।

এতে জানানো হয়, গণপরিবহন চালুর দাবি বাস্তবায়নে রোববার বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি মঙ্গলবার সারা দেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গণপরিবহন ও সব ধরনের পণ্য পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করাসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা এবং সারাদেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকায় ওএমএসের চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী জানান, বাংলাদেশে সড়ক পথে প্রায় ৭৫ শতাংশ যাত্রী চলাচল এবং ৬৫ শতাংশ পণ্য পরিবহন করা হয়। এ কাজে প্রতিদিন ৫০ লাখ পরিবহন শ্রমিক কাজ করে থাকে।

তিনি বলেন, ‘আমরা লকডাউন বিরোধীতা করছি না। কথা ছিল লকডাউনের সময় মানুষের চলাচল, শ্রমঘন শিল্প, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোর্ট-কাচারি ইত্যাদি সব বন্ধ থাকবে। সেই হিসেবে গণপরিবহন বন্ধ থাকলে পরিবহন শ্রমিকের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে লকডাউন শিথিল করায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, বাজার, অফিস-আদালত, গার্মেন্টস, শপিংমল, কাঁচা বাজার, অফিস আদালত ইত্যাদি চলছে।

এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে জানান, রমজান মাস প্রায় শেষ দিকে, সামনে ঈদুল ফিতর। সড়ক পরিবহনে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক কর্মহীন থাকায় তাদের জীবিকা নির্বাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের এই নেতা বলেন, সড়ক পরিবহণ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসালে তার দায় দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন বহন করবে না। অন্যদিকে, গণ পরিবহন বিশেষ করে বাস মিনিবাস ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করার সুযোগ করে দিলে ছোট ছোট যানবাহনে যাত্রীদের দূর দূরান্তে কষ্ট করে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে চলাচল করতে হবে না। এতে অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে এই সেক্টরের শ্রমিকদের। অবসান হবে অসন্তোষের।

করোনাকালে যেহেতু পরিবহন শ্রমিকদের সবসময় গণমানুষের সংস্পর্শে থাকতে হয়। তাই পরিবহন শ্রমিকরা যেমন সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন, তেমনি যাত্রীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। সেই বিবেচনায় গণ-পরিবহণ বন্ধ রাখা যুক্তি সংগত বলে মনে করেন ওসমান আলী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাদিকুর, পরিবহন নেতা রহমান হিরু, শহিদুল্লাহ ছদু, মফিজুল হক, হুমায়ুন কবির খান এবং আব্বাস উদ্দিন খান।

 

0Shares

Comment here