জাতীয়রাজনীতিসীমানা পেরিয়ে

২৯ এপ্রিল থেকে চলবে গণপরিবহন

বিশেষ প্রতিনিধি || প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন শিথিল হচ্ছে। চলমান বিধিনিষেধের সময়সীমা ২৮ এপ্রিল পার হওয়ার পর নতুন করে এই কঠোর বিধিনিষেধ থাকছে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধীরে ধীরে সবকিছু খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এটা তো লকডাউন নয়। আমরা বিধিনিষেধ দিয়েছি। এই বিধিনিষেধগুলো ২৮ তারিখের পরে শিথিল করা হবে। ২৯ এপ্রিল থেকে চালু হবে গণপরিবহন, সীমিত পরিসরে খুলবে সরকারি-বেসরকারি অফিস। ২৮ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। গণপরিবহন চালু হলে কতটা আসন ফাঁকা রাখা হবে, সে বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। ওই বৈঠকেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, নো মাস্ক নো সার্ভিস- এটা শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। মানুষ মাস্ক পড়বে, শারীরিক দূরত্ব মেইনটেইন করবে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানলেই আমরা জীবন ও জীবিকা দুটোই চলাতে পারব। এই কয়দিনে সংক্রমণ অনেকটাই কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাস্ক পরেই আমাদের চলতে হবে। কেউ যেন মাস্ক ছাড়া না বের হয়। সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সবাই যেন মাস্ক পরে। নো মাস্ক নো সার্ভিস- এ বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে, করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ চললেও রোববার থেকে শপিংমল, মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। শুক্রবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর স্বাস্থবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছেন মালিকরা। দূরপাল্লার বাসও চালাতে চান তারা।

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশে ৩০ মার্চ থেকে অর্ধেক খালি রেখে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন শুরু করে গণপরিবহন। ৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর পর গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

লকডাউনে আওতামুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যাতায়াতে ৭ এপ্রিল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।

তবে বন্ধ রাখা হয় দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ। ১৪ এপ্রিল ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হলে সিটি করপোরেশন এলাকায়ও বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। আটদিনের জন্য জারি করা সর্বাত্মক লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বেড়েছে। তবে নানা বিধিনিষেধ শিথিল করে ধীরে ধীরে বিভিন্ন সেবা চালু করা হচ্ছে। এ সুযোগ চান পরিবহন মালিকরাও।

0Shares

Comment here