জাতীয়রুপসী বাংলালাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

ঘটনার অন্তরালে ঘটনা, প্রতিশোধ নিতেই রাসেল মুসল্লী মামলা করে সাংবাদিক হাসানের বিরুদ্ধে

ইমরান জিয়া : তালতলীতে ভূ’মিদস্যু রাসেল মুসল্লীর নির্যাতনের শিকার “সাজেদা বেগমের” মামলা থেকে রক্ষা পেতে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টা মামলায়  স্থানীয় একজন সাংবাদিককে জড়িয়ে হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করেছেন বলে জানাগেছে।

জানাযায় বরগুনার তালতলীতে মিথ্যা এই ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় সাংবাদিক আবুল হাসান শুধু মাত্র রাসেল মুসল্লীর মামলার বাদী সাজেদা বেগমের বোনের ছেলে হওয়ায় এবং নিজ খালাকে সহযোগিতা করার কারনে আক্রোশ বশত প্রতিশোধ নিতেই রাসেল মুসল্লী আবুল হাসানের বিরুদ্ধে নিজের মেয়ে ও আপন ভাগ্নীকে দিয়ে গত ৫ মার্চ আমতলী জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন এ মামলায় হাসান বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন বলে জানাযায়।

সূত্র জানায প্রতিপক্ষ সাজেদা বেগমকে জোড় পূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বর্বর নির্যাতন করে এই রাসেল মুসল্লী। পরে সাজেদা বেগম বাদী হয়ে গত ১৫ মার্চ আমতলী জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট কোর্টে রাসেল মুসল্লীর নামে একটাি নারী নির্যাতনের মামলা করেন এবং এই মামলা থেকে রেহাই পেতে সাংবাদিক আবুল হাসানের বিরুদ্ধে নিজ মেয়ে ও আপন ভাগ্নীকে দিয়ে একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন যা কিনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানাগেছে, উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের পিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত্যু ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে আলী হোসেন ও মেয়েদের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করে একই গ্রামের ভুমিদস্যু খ্যাত ও সন্ত্রাসী রাসেল মুসল্লী গং। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টা পাল্টি মামলা চলমান রয়েছে।

পরে আলী হোসেন রাসেল মুসল্লীর মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে যায়। এ সুযোগে গত ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসী রাসেল মুসল্লী তার বাহিনী সহ পিকে স্কুল সংলগ্ন স্থানীয় বাজারে প্রতিপক্ষের জমিতে জোর পূর্বক ঘর নির্মানের চেষ্টা করে। এ সময় আলী হোসেনের বোন সাজেদা বেগম বাধা দিতে গেলে রাসেল মুসল্লী তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সাজেদা বেগমের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায় বাজারের শত শত লোকের সামনে সন্ত্রাসীরা সাজেদাকে রাসেল মুসল্লীর বাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

বাড়িতে নিয়ে তার উপর ফের বর্বর নির্যাতন চালায় রাসেল এতে সাজেদার সমস্ত শরীর থেতলে ও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে নাক-মুখ থেকে রক্ত ক্ষরন হতে থাকে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হাসান তালতলী থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ রহস্যজনক কারনে নীরব ভ’মিকা পালন করে।

এসময় স্থানীয় মনির সিকদার ৯৯৯ নম্বারে ফোন দিলে তালতলী থানার এ এস আই আজাদ ও এ এস আই মহিউদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সাইদুল সিকদারকে সাথে নিয়ে সাজেদাকে উদ্ধার করেন। এ সময় পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় জাহাঙ্গীর,মনির সিকদার,আলম হাওলাদার, দেলোয়ার, সাইদুর রহমান সহ ১৮/২০জন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের সাথে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সন্ত্রাসী রাসেল গং  সাজেদা বেগমের উপর যে ভাবে বর্বর হামলা ও নির্যাতন করেছে এমন ঘটনা আমরা কখনও দেখিনি। উপায়ান্তর না পেয়ে আমরা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে পুলিশ এসে সাজেদাকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে এ এস আই আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সংবাদ পেয়ে অমরা রাসেলদের বাড়ি থেকে সাজেদাকে উদ্ধার করি। এ সময় কাউকে গ্রেপ্তার করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাসেল মুসল্লীর লোকেরা বলেছে সাজেদা নাকি এই বাড়িতে স্বেচ্ছায় এসেছে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীরাতো সাজেদার উপর সন্ত্রাসী রাসেল গংদের হামলার প্রমান দিয়েছে এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এ এস আই আজাদ।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে সাংবাদিক আবুল হাসান ভিডিও ধারন করতে গেলে সন্ত্রাসী রাসেল তার নিজ কন্যা লামিয়া (১৪) ও তার ডিভোর্সী বোনের মেয়ে সাদীয়া (১৬) কে দিয়ে সাংবাদিক আবুল হাসানকে ধর্ষন চেষ্টা মামলা দিতে ঝাপটে ধরার জন্য ধাওয়া করে এবং রাসেল মুসল্লী তা আবার নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। কিন্তু সাংবাদিক আবুল হাসান এ সময় আত্মরক্ষার জন্য লামিয়া (১৫) ও সাদীয়ার (১৬) ষড়যন্ত্রের কৌশল নিজ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে দৌড় দিয়ে পার্শ্ববর্তী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাদিয়ার পিতা বলেন অমি এ ঘটনাটি দেখেছি। বাস্তবে এখানে ধর্ষণ চেষ্টার কোন ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু মেয়ের মায়ের সাথে আমার ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার কারনে মেয়েটি আমার কথা শোনেনা। আমার মেয়েকে দিয়ে তার মামা রাসেল মুসল্লী প্রতিপক্ষকে দমন করতে এ মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

এ দিকে সাজেদার মামলা থেকে রক্ষা পেতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাসেল বাদী হয়ে তার মেয়ে লামিয়া(১৪) ও ভাগ্নি সাদিয়াকে(১৬) দিয়ে বরগুনা নারী শিশু দমন নির্যাতন ট্রাইবুনালে ধর্ষন চেষ্টা মামলা করে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এজাহারের জন্য তালতলী থানাকে আদেশ দিলে থানা মামলা আমলে নিয়ে সাংবাদিক আবুল হাসানকে গত ৬ এপ্রিল নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন।

গত ৫ এপ্রিল রাত ৮ টায় থানায় এজাহার নিয়ে কোন রকম তদন্ত ছাড়া ৬ এপ্রিল অনুমানিক বিকেলে রাসেল মুসল্লী কে নিয়ে পুলিশ সাংবাদিক আবুল হাসানের বাড়িতে যায় এবং রাসেল মুসল্লী  আবুল হাসানকে কামড় দিয়ে যখম করে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

এ ব্যপারে তালতলী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে ঘটনা সত্যতা পেয়েছে বলেই আসামী আবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

0Shares

Comment here