জাতীয়রুপসী বাংলাশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়েস্বাস্থ্যপাতা

এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ শেষ হচ্ছে আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ শেষ হচ্ছে আজ। শনিবার ছিল ঘোষিত বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিন। আগামীকাল সোমবার ও মঙ্গলবার থাকছে না কোন লকডাউন। বুধবার থেকে ফের এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষিত হয়েছে যা হবে সত্যিকার অর্থেই কঠোর লকডাউন। ফলে চলমান লকডাউনের শেষ মুহূর্তে নগরীর চিত্র ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। গণপরিবহনে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীরা চলাচল করলেও অন্য সব জায়গার পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। আগামী সপ্তাহের লকডাউন, রমজান ও নববর্ষের প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সে জন্য রাজপথে গণপরিবহনেও ছিল বেশ চাপ। তবে রাতের চিত্র ভিন্ন। দিনে মানুষ করোনাকে তোয়াক্কা না করলেও রাতের রাজধানী একেবারেই সুনসান নীরব নিস্তব্ধ। রাতে দু’চারটা অটো প্রাইভেট ও রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোন পরিবহন চোখেই পড়ে না। সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই রাজধানীর সড়ক, অলিগলিতে নেমে আসছে সুনসান নীরবতা। জনসাধারণের যাতায়াতও চোখে পড়ে না। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে মানুষ। রোগতত্ত্ব ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের সে পরামর্শ আমলে নিচ্ছে না মানুষজন। ফলে রাজধানীতে নামকাওয়াস্তে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ।

শনিবার দেখা যায়- লকডাউনে বর্ধিত ভাড়া ও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলছে গণপরিবহন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সড়কে চলছে গণপরিবহন। চালক ও হেলপার বলছেন-অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলায় অনেক পরিবহন মালিককে গুনতে হচ্ছে লোকসান। শনিবার সকালে বিমানবন্দর, মিরপুর, কাজীপাডা, শেওড়াপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ ও প্রেসক্লাব ও গুলিস্তান এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। অল্প কিছু গণপরিবহনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকলেও বেশিরভাগ পরিবহনে ছিল না। মাস্ক পরেই গণপরিবহনে যাতায়াত করতে দেখা যায় যাত্রীদের। লকডাউনের প্রথম দুই দিনের তুলনায় সড়কে কম দেখা যায় রিক্সা, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল। এই দিন সকাল থেকেই গণপরিবহনগুলোতে ১০ থেকে ১২ যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা যা। দু’-একটি পরিবহনে যাত্রীশূন্য চলাচল করতে দেখা গেছে। কিছু কোম্পানির বাসকে সিট অনুযায়ী যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। একাধিক কোম্পানির বাস চালক ও কন্ডাক্টরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- লকডাউনে বন্ধ থাকার পরে যেসব পরিবহন সড়কে চলাচল করেছে তাদের খরচের টাকা উঠেছে কোনমতে। গণপরিবহনের কিছু মালিক টাকা পেয়েছে, আর কিছু মালিক একেবারেই টাকা পায়নি পরিবহনগুলো থেকে। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলাকা পরিবহনের যাত্রী মাসুদ বলেন, আমরা যাত্রীরা সবাই মাস্ক পরেই পরিবহনে যাতায়াত করছি। সড়কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে গণপরিবহন। বাড়তি ভাড়া ও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলছে গণপরিবহন। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে অর্ধেক আসন ফাঁকার শর্ত অনেক বাসই মানছে না। ফলে দু’সিটে দুজনকেই পাশাপাশি বসতে দেখা যায়।

শুক্রবার রাতে সরেজমিন রাজধানীর বনানী, ধানম-ি, লালবাগ, কলাবাগান, রমনা ও তেজগাঁও থানা এলাকায় দেখা গেছে- সর্বত্র সুনসান নীরবতা। ফাঁকা রাস্তায় ছুটছে পণ্যবাহী ট্রাক। মোড়ে মোড়ে রিক্সাচালক ও রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল মালিকরা যাত্রীর অপেক্ষা করলেও দেখা নেই। যারা যাত্রী পাচ্ছেন তারা ফাঁকা রাস্তায় স্বল্প সময়েই গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছেন বলে জানালেন। বিভিন্ন মোড়ে মৌসুমি ফল বিক্রেতাদের তরমুজ নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেলেও ক্রেতা নেই। সারাদিনে বিক্রি না হওয়া সবজি ও মাছ নিয়েও অনেক বিক্রেতা মূল সড়কের পাশে বসে আছেন। তবে ক্রেতার দেখা নেই।

0Shares

Comment here