জাতীয়লাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গন

ভালুকার গৌরব আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু (এমপি)

সাইফুল ইসলাম ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত মহান মুক্তিযুদ্ধে অনিয়মিত ৩টি বাহিনীর একটি ‘আফসার বাহিনী’; এই বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও কমান্ডার মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদের ৫ম ছেলে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠকের সন্তানই যেন একটি ‘রাজনৈতিক পদ’। প্রাঞ্জল ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর সুনাম সর্বজনবিদিত। খেটে খাওয়া দিন মুজুর থেকে দলমত নির্বিশেষে যাকে ‘ধনু ভাই’ হিসেবে সম্ভোধন করেন। সমাজের অবহেলিত ও নির্যাতিত মানুষের সুখে-দুঃখে দিন রাত সাড়া দেন তিনি। অজপাড়া গাঁয়ের প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতা কর্মীকেই তিনি ব্যাক্তিগত ভাবে চেনেন ও জানেন। তাদের সবার নামই তাঁর ঠুটস্থ। বলছিলাম, ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের সাংসদ আলহাজ¦ কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনুর কথা।

বর্ণঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাঁর। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে হয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য। এমন সৌভাগ্য এ দেশের খুব কম রাজনীতিবিদেরই হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত আসতে তাঁকে অনেক কাঠ-খড় পুড়াতে হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন তিনি।

৯০‘র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাহসী এ ছাত্রলীগ নেতা বিএনপি জামাতের শাসন আমলে ছিলো ‘আতংকের নাম’। ইনোভেটিভ ও মানবিক চেতনার অধিকারি কাজিম উদ্দিন ধনু ১৯৯১ সনের প্রলয়ংকারী ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে সেইসময় নগদ ২৫ হাজার টাকা ও ১০ বস্তা নতুন-পুরাতন কাপড় প্রদান করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্নেহধন্য হয়েছিলেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র রাজনীতির হাতে খড়ি হয় বর্তমান এ সাংসদের। ভালুকা উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। পরে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বসহ বেশ কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব সফল ভাবে পালন করেন। এর মাঝে ১৯৯৭ সালে উপজেলার ৭নং মল্লিকবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুন ভোট বেশি পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এই জননেতা।

করোনাকালিন সময়ে ভারতে চিকিৎসা করতে গিয়েছিলেন আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু। দেশে ফিরে ১৪দিন হোম কোয়ারাইটান মেনে ‘মানবতার অগ্রদূত’ হিসেবে ঝাঁপিয়ে পড়েন ভালুকাবাসীর পাশে। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বেকার হয়ে যাওয়া ১০হাজার পরিবারকে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। বিনামূল্যে বিতরণ করেন প্রায় ৫০হাজার মাস্ক।

শিল্প সমৃদ্ধ ভালুকাকে মনের মাধুরি মিশিয়ে সাজাতে চান এ সাংসদ। তিনি একান্ত সাক্ষাতকারে এ প্রতিবেদককে জানান তাঁর নানা পরিকল্পনার কথা:
তিনি বলেন, ‘শিল্পনগরী এ ভালুকাকে পরিকল্পিত, বাসযোগ্য, আধুনিক, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত, দখল মুক্ত, দূষণ মুক্ত, শিশু বান্ধব, পরিবেশ বান্ধব ও একটি আদর্শ উপজেলা গড়তে আমি বদ্ধ পরিকর।

তিনি আরও বলেন, ‘ভালুকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ, উন্নতমানের কারিগরি কলেজ, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, শিশু পার্ক স্থাপনের জন্য অনেকটুকু পথ এগিয়ে আছি। নদী খননের জন্য একাধিকবার সংসদে প্রস্তাব করেছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়িই নদী খননের কাজ শুরু হয়ে যাবে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে রেল লাইন এক্সটেনশন করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

বীর বাবার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান:- বাবার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছি উল্লেখ করে কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু বলেন, ‘আমার বাবা একটি মাত্র রাইফেল নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আহবানে এ দেশ স্বাধীন করার জন্য মাত্র ৭জন সহযোগী নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করেন। যা পরবর্তীতে ৪৫০০ এর অধিক মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে এক বিশাল বাহিনীতে পরিণত হয়; যার নাম হয় ‘‘আফসার বাহিনী”। সেই সাথে পরিবারের ১৯ সদস্যের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। শুধু তাই নয়, রনাঙ্গনের খবরাখবর প্রকাশ করতে ও মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ যোগাতে “জাগ্রত বাংলা” নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শশ্রæসা দিতে প্রতিষ্ঠা করেন “আফসার ব্যাটালিয়ান” স্মৃতি হাসপাতাল। মেজর আফসার বাহিনী “সামরিক বাহিনী”র আদলে গঠিত হয়। আমার বাবা ছিলেন অসীম সাহসী। দেশ স্বাধীনে তিনি তাঁর লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন; তাই তিনি সফল হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হলে তাঁর স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছিলো। কাূরণ তিনি বলেছিলেন, “শেখকে মুক্ত করতে প্রয়োজনে আমরা পিন্ডি যাবো”। আমার বাবা জমি বিক্রি করে মানুষের সেবা করেছেন। নিজে কষ্ট করে ব্যাবসার অর্জিত অর্থ মানুষের কল্যানে দান করেছেন। আমি বাবার ওইসব কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ভালুকার উন্নয়নে আমার বাবার মতো আমিও দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

আদর্শ ভালুকা গড়তে ভালুকাবাসীর সার্বিক সহযোগীতা চান:- তিনি বলেন, ‘একটি মডেল উপজেলা গড়তে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে পারে। সকলে মিলে মিশে একটি মানবিক ভালুকা গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

 

0Shares

Comment here